
শেষ আপডেট: 31 October 2023 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের ফান্ডে কত টাকা আছে তা জানেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের পদযাত্রা থেকে নিজেই একথা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দুর কথায়, “তৃণমূলের ফান্ডে কত টাকা আছে, আমি সব জানি! ওদের ফান্ডে ৮০০ কোটি টাকা আছে। ডিয়ার লটারি ৩ কোটি টাকা দিয়েছে। ওই টাকা থেকেই টাটার অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
সিঙ্গুরের জমি নিয়ে আরব্রিটাল ট্রাইবুনালে মামলা চলছিল। সোমবার সেই মামলার রায়ে ট্রাইবুনাল জানিয়ে দিয়েছে, টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। শুধু তাই নয়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ওই টাকার উপর ১১ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে। ২০১৬ সাল থেকে ইতিমধ্যে ৭ বছর অতিক্রান্ত। এই সাত বছরে সহজ ১১ শতাংশ হারে সুদ ধরলে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাঁড়ায় ১৩৫৫ কোটি টাকা। রাজ্য সরকার যতক্ষণ না ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে ততক্ষণ এই সুদে গুণে যেতে হবে।
সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, “জনগণের করের টাকা আমরা নযছয় করতে দেব না। টাটার কারখানা না হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী। তাই তৃণমূলের পার্টি ফান্ড থেকেই দিতে হবে অতিরিক্ত টাকা।”
একই সঙ্গে দুর্নীতি ইস্যুতে এদিন বাংলার পাশাপাশি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। বিরেধী দলনেতা বলেন, যে কোনও রাজ্য সরকারের প্রধান মুখ্যমন্ত্রী। কোনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী যদি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে মুখ্যমন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না। কারণ, তিনি ক্যাবিনেটের শেষ কথা।
শুভেন্দুর কথায়, “লিকার স্ক্যামে জড়িত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার। একইভাবে বাংলার রেশন, শিক্ষা সহ একাধিক দুর্নীতিতে জড়িত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।” এরপরই তৃণমূলের পার্টি ফান্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।
দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন শুভেন্দু। কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর থেকে চেয়ারম্যান। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্থান। তমলুকের সাংসদ। পরে বিধায়ক হয়ে রাজ্যের একাধিক দফতরের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে দলবদলে বিজেপিতে যান শুভেন্দু। তারপর থেকেই বিভিন্ন সময় তিনি দাবি করে থাকেন, তৃণমূলের অন্দরে তাঁর লোক রয়েছে। এবার পার্টি ফান্ডের বিস্তারিতও তিনি জানেন বলে জানালেন।