
শেষ আপডেট: 8 November 2023 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মগরাহাটের পর খয়রাশোল। গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার গেরুয়া শিবির।
বুধবার বীরভূমের খয়রাশোলে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেছিলেন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতা অনুপম হাজরা আসবেন, একথা জানার পরই দলের একাংশ অস্থায়ী ওই মঞ্চে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে এলাকা. রীতিমতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে বুধবার সন্ধেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে বিজেপির বিজয়া সম্মিলনী উপলক্ষে সেখানে পৌঁছতে দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন দলের একাংশ কর্মী। দুর্গাপুজোর অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ চরমে পৌঁছেছিল। তারই জেরে দলের একপক্ষের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন দিলীপ।
অনুপমের ক্ষেত্রে অবশ্য দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে এদিন খয়রাশোলের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে ভাঙচুর চালান দলের একাংশ কর্মী। নিজেদেরকে বিজেপির দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করে তাঁদের বক্তব্য, "অনুপম হাজরা দল বিরোধী কার্যকলাপ করছেন। এমনকী বৃহস্পতিবার শান্তিনিকেতনে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। এরপরও তাঁকে দলের নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।" সূত্রের খবর, অনুপমকে বহিষ্কার করতে চেয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বর কাছে নোট গিয়েছে রাজ্য থেকেও।
বিশ্বভারতীর ফলক বিতর্ককে কেন্দ্র করে সম্প্রতি রাজ্য নেতৃত্বর সঙ্গে প্রকাশ্যে কোন্দলে জড়ান অনুপম। ‘উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী নিজেকে বিজেপি প্রমাণ করার জন্য বারবার রবীন্দ্রনাথকে অপমান করেছেন’ বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অনুপম হাজরা। এমনকী উপাচার্য বিশ্বভারতী ছেড়ে যাওয়ার পর শান্তিনিকেতনকে গোবর জল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করে পরিষ্কার করারও ডাক দিয়েছেন তিনি।
অনুপমের এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নাম না করে বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “উপাচার্যকে অপমান করা বিজেপির সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। দলে থেকে এই সব করা যাবে না। কারও না পোষালে দল থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন।” শমীকের ওই মন্তব্যের পরই শান্তিনিকেতনের কবিগুরু মার্কেটে তৃণমূলের অবস্থান মঞ্চে পৌঁছন বিজেপি নেতা অনুপম। তৃণমূলের ধর্না মঞ্চে রবীন্দ্রমূর্তিতে মাল্যদান করার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতা, কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। তারপরই জন্ম নিয়েছে নয়া গুঞ্জন, তৃণমূলে ফিরছেন অনুপম হাজরা?
এমন আবহে এদিন বীরভূমে দলের দুটি বিজয়া সম্মিলনীতে হাজির হয়েছিলেন অনুপম। রামপুরহাটের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বকে আক্রমণ করেন তিনি। তখনই খয়রাশোলের অস্থায়ী মঞ্চে শুরু হয় ভাঙচুর। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মণ্টু ঘোষ। তিনি বলেন, "ক্ষোভের জায়গা থেকেই দলের একাংশ অনুপমের মঞ্চে ভাঙচুর চালান।"