
শেষ আপডেট: 11 October 2018 09:25
এই তিতলি ঝড়ের তীব্রতায় রীতিমতো লণ্ডভণ্ড ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের একের পর এক গ্রাম। উপড়ে পড়ছে গাছ, ভেঙে পড়ছে ল্যাম্পপোস্ট। ভাঙছে মাটির বাড়ি। বিদ্যুৎ ও টেলিফোন পরিষেবা বেহাল। উড়ে গিয়েছে বহু বাড়ির ছাদ। এই অবস্থায় বন্ধ রয়েছে সমস্ত স্কুল-কলেজ-অফিস। বাতিল হয়েছে ভুবনেশ্বরের রেলের পরীক্ষাও। তিন লক্ষ মানুষকে সরানো হয়েছে উপকূল ও সংলগ্ন এলাকা থেকে। ওড়িশা সরকারের দাবি এই দুর্যোগ তাদের কাছে 'মিশন জ়িরো ক্যাজ়ুয়ালিটি'। অর্থাৎ এক জনেরও যাতে মৃত্যু না হয়, সেই লক্ষে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
ওড়িশা-অন্ধ্রের এই ভয়াবহ অবস্থার জেরে স্বস্তিতে নেই পশ্চিমবঙ্গও। পুজোর মুখে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আতঙ্কিত অনেকেই। আবহ দফতরের খবর অনুযায়ী, কটক ও ভদ্রক হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসবে তিতলি। তবে বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এ দিকে আসতে আসতে অনেকটাই শক্তি হারিয়ে, ঘূর্ণিঝড় থেকে নিম্নচাপে পরিণত হবে তিতলি। কিন্তু তাতেও আগামী চার-পাঁচ দিন রাজ্য জুড়ে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, মুুুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা ও বর্ধমানে বেশি প্রভাব পড়বে।
রাজ্যের সমুদ্র উপকূল এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস। উত্তাল ঢেউয়ের আশঙ্কা। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সতর্ক করা হয়েছে পর্যটকদেরও। বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে নবান্নে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। তৈরি রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। জারি করা হয়েছে, বিশেষ 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট'।
সাধারণ মানুষও আশঙ্কায় ছিলেন কয়েক দিন ধরেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিল, বৃহস্পতিবার ওড়িশার উপকূলে আছড়ে পড়া তিতলির জের পৌঁছবে কলকাতাতেও। বুধবার দিনভর বৃষ্টিপাতও হয় শহরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফের রোদ উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ঝড় বা বৃষ্টির লক্ষ্মণ দেখা যায়নি শহরের আকাশে। শহরবাসীর চিন্তা এখন একটাই, পুজোর সময় দুর্যোগ হবে না তো?