
শেষ আপডেট: 25 September 2023 14:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিতাস একটি নদীর নামই নয়, তিতাস (Titas Sadhu) একটি সোনার মেয়েরও নাম!
এশিয়ান গেমসের (Asian Games) মঞ্চে বাংলার এই মেয়ের সাফল্যে উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে চুঁচুড়ার বাড়িতে। সোমবার গেমসের ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ছয় রানে তিন উইকেট নিয়ে কার্যত ম্যাচের সেরা হয়েছেন বাংলার মিডিয়াম পেসার।
সকাল সকাল বাড়ির সবাই টিভির সামনে বসে পড়েছিল। কে ছিলেন না, ঠাকুমা থেকে বাবা, কাকা, সবাই। বাড়ির মেয়ের এই নিদারুণ সাফল্যে মুগ্ধ সকলেই। গর্বিত বাবা রণদীপ সাধু জানালেন, আমার তো মনে হয় এবার নিয়মিতভাবে সিনিয়র দলের দরজাও খুলে যাবে।
তিতাসের (Titas Sadhu) বোলিং পরিসংখ্যান সত্যিই চমকপ্রদ, ৪-১-৬-৩। শ্রীলঙ্কার প্রারম্ভিক তিনটি উইকেট নিয়ে বিপক্ষের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন। কাকা রক্তিম সাধু বলেছেন, আমাদের মেয়েটাই মনে হয় গেমসের সেরা ক্রিকেটার হবে। ওর প্রতি দলের ভরসা রয়েছে, সেটি হরমনপ্রীত তিতাসকে তৃতীয় ওভারে বল তুলে দেওয়াতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
পুজোয় এবার তিতাসের বাজার, পাড়ার পুজোর প্যান্ডেল হতে শুরু করেছে। কলকাতা থেকে ইতিমধ্যেই পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন চলে এসেছে, পুজোয় এবার তিতাসকে চাই। গেমসে ভারতকে সোনা এনে দেওয়ার মূলে বাংলার মিডিয়াম পেসার, এটা ভাবলেই আবেগে চোখে জল চলে আসছে তিতাসের বাবা-কাকার।
চুঁচুড়া কলেজ রোডের বাড়িতে এর আগে বিশ্বজয়ের পদক এসেছে। এবার গেমসের সোনা। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তিতাসের কোচ দেবদুলাল রায়চৌধুরী জানালেন, আমরা আশাতেই ছিলাম ও ফাইনালে খেলবে। কিন্তু এতটা ভাল বোলিং করবে, সেটি ভাবতে পারেনি। চাপ নেওয়ার ক্ষমতা ওর বরাবরই, সেটাই দেখিয়েছে।
আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস দলের বোলার হিসেবে মহিলাদের আইপিএল খেলেছেন। সেই ডাক পাওয়ার নেপথ্যে নাকি ছিলেন দিল্লি দলের ডিরেক্টর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। মহারাজ ভাল করেই রত্ন চেনেন। একটা সময় তাঁর হাত ধরে টিম ইন্ডিয়ার জন্ম হয়েছিল। জুহুরির চোখ দিয়ে তিতাসের প্রতিভা বাছাই করে তাঁকে ডাকার মধ্যেও মহারাজকীয় ব্যাপার রয়েছে।