দ্য ওয়াল ব্যুরো : এখন সব দলেরই উচিত উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা। এই মন্তব্য করে শাহিনবাগ নিয়ে মামলার শুনানি ২৩ মার্চ পর্যন্ত পিছিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার জন্য শীর্ষ আদালত দুই মধ্যস্থতাকারীকে নিয়োগ করেছিল। তাঁরা হলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় হেগড়ে ও সাধনা রামচন্দ্রন। গত সোমবারই তাঁরা মুখ বন্ধ খামে এসম্পর্কে রিপোর্ট পেশ করেছেন।
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে দিল্লির শাহিনবাগে শুরু হয়েছিল ধর্না। যতদিন গিয়েছে, মানুষের যোগদান বেড়েছে। আর এই আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ফরিদাবাদ থেকে নয়ডা যাওয়ার রাস্তা। ৬৯ দিন পরে সেই রাস্তার একটা অংশ খুলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে এই ব্যবস্থা করেছেন আইনজীবীরা। যদিও এখনও নয়ডা থেকে দিল্লি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
রাস্তার একটা অংশ খোলায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হবে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। এতদিন এই রাস্তা বন্ধ থাকায় নয়ডা দিল্লি ফ্লাইওয়ের উপর চাপ বাড়ছিল। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, আন্দোলন হতেই পারে, কিন্তু সেটা সাধারণ মানুষের সমস্যা করে নয়। তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে দুই আইনজীবী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা এই সমস্যার কথা বোঝান। সেইসঙ্গে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশের কথাও তাঁদের বলেন। তারপরেই একদিকের রাস্তা খুলতে রাজি হন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু যতদিন না নাগরিকত্ব আইন তুলে নেওয়া হচ্ছে, ততদিন তাঁরা শাহিনবাগের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত আইনজীবীরা কথা বলেন পুলিশের সঙ্গেও। তারপরেই একদিকের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে অনেকটাই খুশি আইনজীবীরা। পুলিশদেরও ধন্যবাদ দিয়েছেন তাঁরা। এর ফলে ফরিদাবাদের দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হল যাত্রীদের।
১৫ ডিসেম্বর থেকে শাহিনবাগে শুরু হয়েছিল নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন। এর ফলে দিল্লি থেকে নয়ডা যাওয়ার ১৩এ রোড বন্ধ হয়ে যায়। এই আন্দোলনের জন্য অন্য কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয় দিল্লি পুলিশও। ফলে নয়ডা, দিল্লি ও ফরিদাবাদের মধ্যে যাত্রী চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছিল। সেই সমস্যারই কিছুটা সমাধান হল।