
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 26 December 2024 21:26
সুমন বটব্যাল
প্রেমিকের খোঁজে নাকি অন্য কোনও কারণ? কী কারণে ওড়িশা থেকে ঝাড়গ্রাম হয়ে সোজা বান্দোয়ান হেঁটে চলেছে বাঘিনি জিনাত? আপাতত পুরুলিয়ার রাইকা পাহাড়ে ঘাঁটি গাড়লেও ক্ষণিকের বিশ্রাম সেরে সে কি আবারও সামনের দিকে হাঁটা দেবে?
বিষয়টি ভাবাচ্ছে বনকর্তাদের। সেই সূত্রে চর্চায় উঠে আসছে, গত অক্টোবর থেকে নভেম্বর, টানা ৩ মাসে ৩০০ কিমি পথ হাঁটা জনির (পুরুষ বাঘ) কথা। জিনাতের মতো জনিরও গলায় বাঁধা ছিল রেডিও কলার। সেই সূত্রেই মহারাষ্ট্রের টিপেশ্বর অভয়ারণ্য থেকে তেলেঙ্গানা, জঙ্গলপথ পরিক্রমা করে চলতি বছরে রেকর্ড গড়েছে জনি।
বনকর্তাদের নিজস্ব আলোচনায় এ প্রসঙ্গে উঠে আসছে, জিনাত কি সেই রেকর্ড ভেঙে দিতে চাইছে? কারণ, এখনও ইউটার্ন নেয়নি সে! জনির দীর্ঘ হাঁটার নেপথ্যে 'কামোন্মত্ত অভিসার' এর গন্ধ পেয়েছিলেন বনকর্তারা। বাঘিনি জিনাতের ক্ষেত্রেও কি সেই একই কারণ? বনকর্তারা বলছেন, এমন সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, ক্যাট ফ্যামিলি আইসোলেশন পছন্দ করে। রাইকা পাহাড়ের এই এলাকাটি বেশ নিরিবিলি। তার ওপর জঙ্গল থেকে নিজের মতো শিকারও করে নিচ্ছে। ফলে খাবারের টান না হওয়া পর্যন্ত বাঘিনি নিজের ডেরা থেকে খুব একটা নড়বে বলে মনে করছেন না বনকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রাইকা পাহাড়ের যে এলাকাটিতে জিনাত ঘাঁটি গেড়েছে সেখানে পাহাড়ির গাছ পালার দৌলতে কার্যত ছোট ছোট গুহাও রয়েছে। ফলে জিনাত সহজে এমন মনোরম পরিবেশ ছেড়ে বেরোবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এক্ষেত্রে ফাঁদপাতা থেকে বনকর্মীরা সব ধরনের আয়োজন থাকলেও নতুন করে বাধ সেধেছে আবহাওয়া। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ফলে জিনাত আপাতত নিজের ডেরা থেকে বাইরে আসবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে বাঘিনিকে ডেরা থেকে বাইরে বের করে এনে বন্দি করা যায়, তা নিয়ে রূপরেখা তৈরি করতে বান্দোয়ানে বন দফতরের অতিথি আবাসে বৈঠকে বসেছেন বন দফতরের শীর্ষ কর্তারা। সেখানে রাজ্যের বনকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের আধিকারিকরাও।
বন দফতরের দক্ষিণ-পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল বিদ্যুৎ সরকার রাতে বলেন, "পরিবেশ গত কারণে বাঘিনিকে বাগে আনতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে বিকল্প উপায়ের কথা ভাবা হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই সুফল পাব আমরা।"