
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 December 2024 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত চারদিন ধরে আপন খেয়ালে পাহাড়ে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। তাকে ধরার হাজারও চেষ্টা করেও কার্যত ব্যর্থ বনকর্তারা। ছাগলের লোভ সামলে নিয়েছে, এখন মোষ এবং বুনো-শুয়োরকেও পাত্তা দেয়নি বাঘিনী জিনাত। পুরুলিয়ার রাইকা পাহাড় এলাকাতেই বর্তমানে আস্তানা তৈরি করেছে সে।
বন দফতর সূত্রে খবর, জিনাতের গলার রেডিও কলার ট্র্যাক করে তার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু সে আদতে কোথায় রয়েছে তার সন্ধান এখনও মেলেনি। বন দফতর মনে করছে, পুরুলিয়ার রাইকা পাহাড় জঙ্গলেই পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে জিনাত, তাই আর বেরিয়ে আসছে না অন্যত্র যাওয়ার জন্য। তাকে ধরার জন্য জঙ্গলের তিন প্রান্তে ছাগল, বুনো-শুয়োর এবং মোষের ফাঁদ পাতা হয়েছিল। কিন্তু জিনাতকে বাগে আনা যায়নি এখনও।
এখন বাঘিনী জিনাত যে এলাকায় রয়েছে সেখানে একাধিক গুহা আছে। বন দফতরের অনুমান, এর মধ্যেই কোনও একটি গুহায় থাকতে শুরু করেছে সে। তবে দুর্বল ইন্টারনেটের সংযোগ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণে তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলছে না। সেই ক্ষেত্রে বনকর্মীরা আরও বেশি দলে ভাগ হয়ে গিয়ে জিনাতকে খোঁজার পরিকল্পনা নিয়েছে। তাতে আর বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
বাঘের আতঙ্কে গ্রামবাসীদের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। সামান্য কাঠ সংগ্রহের জন্যও তাঁরা একা একা জঙ্গলে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তবু ওরা বাঘিনির 'হয়ে' কথা বলছেন। বলছেন, ''বেচারা চারদিন না খেয়ে রয়েছে! কেউ যেন ওকে আক্রমণ না করে''! গ্রামবাসীদের মুখে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, "এই জঙ্গল তো আমাদের একার নয়, এই জঙ্গল ওদেরও! আমাদের জঙ্গলে বাঘিনি থাকলে থাকুক।''
এমন পরিস্থিতিতে তাই হতাশার পরিবর্তে বনকর্তাদের চোখে মুখে অন্য তৃপ্তির হাসি! কারণ, বণ্যপ্রাণ বাঁচাতে পুরুলিয়ায় লাগাতার সচেতনতার প্রচার চালিয়েছে বন দফতর। দুঃসময়ে সেটাই 'ডিভিডেন্ট' হয়ে ফিরছে বন কর্তাদের কাছে।