দ্য ওয়াল ব্যুরো : ডিসেম্বর মাস শেষ হওয়ার আগে কোভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার (Booster) নিন। কারণ শীঘ্রই আসছে ওমিক্রনের ঢেউ। রবিবার ব্রিটেনের নাগরিকদের এভাবেই সতর্ক করলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, “ওমিক্রনের ঢেউ আসছেই। তা নিয়ে কারও মনে সন্দেহ থাকা উচিত নয়।” দক্ষিণ আফ্রিকার পরে ব্রিটেনেই কোভিডের সংক্রমণ বাড়ছে সবচেয়ে দ্রুত হারে। এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারপরেই টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।
গতবছর ক্রিসমাসের সময় অভিযোগ উঠেছিল, বরিস জনসন কোভিড বিধি ভঙ্গ করেছেন। এবার ক্রিসমাসের আগে তিনি বলেন, দেশে কোভিড পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রতি দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে দ্বিগুণ। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “কোভিড কীভাবে ছড়ায়, সে ব্যাপারে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।”
রবিবার জানা যায়, ব্রিটেনে নতুন করে ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৩৯। সেজন্য দেশে কোভিড সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। এই নিয়ে সেদেশে মোট ৩১৩৭ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত হলেন। শনিবারের তুলনায় রবিবার দেশে ওই ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৬৫ শতাংশ।
গত জুন মাসে ব্রিটেন কোভিড সতর্কতা শিথিল করে। তখন স্টেজ থ্রি অ্যালার্ট লেভেল জারি করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা জানান, ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টের গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। বরিস জনসন বলেছেন, “আমাদের দেশে এখন অনেকে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। তার পরে এসেছে ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্ট। এর ফলে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরে চাপ পড়বে।”
পরে তিনি বলেন, “আপাতত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হয়, ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন ছড়াচ্ছে দ্রুত। এক্ষেত্রে ভ্যাকসিনও ভাল কাজ করছে না।” ওমিক্রন আক্রান্তদের শরীরে কী ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তা নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনই কয়েকজন ওমিক্রন আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক ওমিক্রন আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হবেন।
ব্রিটেনের স্বাস্থ্য দফতরের অফিসাররা বলেন, ওমিক্রন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বুস্টার ডোজ নেওয়া জরুরি। এখনও পর্যন্ত ফাইজার ও মোডার্নার বুস্টার ডোজ ভাল কাজ করেছে। সরকার স্থির করেছে, আগামী জানুয়ারির মধ্যে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সকলকেই বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। কিন্তু বরিস জনসন চান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সকলে বুস্টার ডোজ নিক। কারণ এরপরে যদি ওমিক্রন ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরে চাপ পড়বে। সরকার স্থির করেছে, বুস্টার দেওয়ার জন্য চালু হবে স্বাস্থ্যকর্মীদের মোবাইল ইউনিট।