
শেষ আপডেট: 13 September 2019 18:30
দুনিয়া কাঁপানো সেই ছবি। ধরা দিয়েছিল চার্লির কোলের লেন্সে।[/caption]
টেক্সাসের বাসিন্দা চার্লি কোল। ‘নিউজউইক’ দৈনিকের চিত্রগ্রাহক। বেজিংয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল ছাত্র-বিক্ষোভের স্টোরি কভার করতে। চার্লি বলেছিলেন, ‘‘বেজিংয়ের একটি হোটেলে উঠেছিলাম আমি। ৪ জুন রাত থেকেই আন্তর্জাতিক মহলের নামী সাংবাদিক, চিত্রগ্রাহকদের ভিড় ছিল বেজিংয়ে। তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে চিনা সেনার আস্ফালন, সাঁজোয়া গাড়ির ভিড়, অন্ধকারের মধ্যে গুলি চলার শব্দ, রক্তস্রোতে ভেসে যাওয়া শরীরগুলো আমাকে সারাজীবন তাড়িয়ে নিয়ে গেছে।’’
[caption id="attachment_141940" align="aligncenter" width="702"]
সাঁজোয়া গাড়ির ভিড় তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে। ১৯৮৯, ৫ জুন।[/caption]
বিক্ষোভকারীদের কোনও ছবি তোলায় নিষেধ ছিল। চার্লি জানিয়েছিলেন, বন্দুক উঁচিয়ে পাহারায় ছিল ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’-র (পিএলএ)-র সেনারা। ৫ জুন ভোর হতেই টাইম ম্যাগাজিনের ফোটোগ্রাফার স্টুয়ার্ট ফ্র্যাঙ্কলিনের সঙ্গে একটি হোটেলের বারান্দায় উঠে গিয়েছিলেন তিনি। আশপাশের আরও অনেক বাড়ি, হোটেলের বারান্দায় তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ভিড়। সাঁজোয়া গাড়ির চাকার শব্দে আগের রাতের পিষে যাওয়া শরীরগুলোর আর্তনাদ ভেসে আসছে। প্রথম সারির পর পর চারটে গাড়িকে লেন্সের ভিতর এনেছিলেন চার্লি। ক্লিক করার মুহূর্তেই, হই হট্টগোল।



১৯৮৯, ২৮-২৯ মে। তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে ছাত্র-বিক্ষোভকারীদের ভিড়।
চার্লি কোল (ডান দিকে)। দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৮৭ সালে তোলা ছবি।[/caption]
এর পরে অনেক ঝড় ঝাপটা গেছে চার্লির জীবনে। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চার্লি জানিয়েছিলেন, বারান্দায় উঠে এসেছিল চিনা সেনারা। লাথি খেতে খেতে কোনও রকমে পালিয়েছিলেন তিনি। হোটেলের বাথরুমে আত্মগোপন করেছিলেন দিনের পর দিন। পরে পালিয়ে গিয়েছিলেন আমেরিকায়। সেই ছবি সামনে আসে অনেক পরে। ১৯৯০ সালে ট্যাঙ্ক-ম্যানের সেই ছবিকে বহুমূল্য ঘোষণা করে পুরস্কৃত করে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফোটো।’ এই ছবি নিয়ে বিতর্কও হয়। আপত্তি তোলে চিনা সরকার। তবে ততদিনে ছবিটি বিখ্যাত হয়ে গেছে জনমানসে।
৩০ বছর কেটে গেছে। তিয়েনআনমেন নিয়ে এখনও কথা বলতে স্বচ্ছন্দ নয় বেজিং প্রশাসন। নিরপরাধ ছাত্র ও সাধারণ নাগরিকদের উপরে গুলি চালানো যে ভুল ছিল— সেটুকু বলার জন্য চাপ তৈরি করা হলেও চিনা কমিউনিস্ট পার্টি তাতে কান দেয়নি। পরবর্তী কালে চার্লি জানিয়েছিলেন, আর কোনও দিনই তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে ফিরে যাননি তিনি। গুলি, ট্যাঙ্কের গোলার শব্দ আর রক্তের গন্ধে সেখানকার বাতাস নাকি আজও ভারী!