দ্য ওয়াল ব্যুরো: পণ্য ও পরিষেবা করের (জিএসটি) সর্বনিম্ন হার পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আট শতাংশ করার কথা বিবেচনা করছে জিএসটি কাউন্সিল। বর্তমানে জিএসটির হারের চারটি স্তর রয়েছে – ৫%, ১২%, ১৮% ও ২৮%। এই চারটি স্তর কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জিএসটি কাউন্সিল চাইছে, করের নতুন হার করা হোক ৮%, ১৮% ও ২৮% শতাংশ।
যদি নতুন এই হারে অনুমোদন দেয় জিএসটি কাউন্সিল, তা হলে নামী সংস্থার প্যাকেট করা শস্য, মোবাইল ফোন, পিৎজা, ট্রেনের বাতানুকুল কামরার টিকিট, বিমানযাত্রা, দামি হাসপাতালের শয্যা, পেন্টিং, নামী ব্র্যান্ডের পোশাক এবং লিনেন-রেশমের মতো সূক্ষ্ম তন্তুর। মনে করা হচ্ছে, আয় বাড়াতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
সূত্রের খবর, বেশিরভাগ রাজ্যই চাইছে জিএসটির কাঠামো আরও সরল হোক। তারা তিনটি স্তরে জিএসটি চাইছে। কাউন্সিলের একাংশ চাইছে মাঝের স্তরটিকে ১৮% না করে ১৫% করা হোক।
আগামী ১৮ ডিসেম্বর জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হল, জিএসটি আদায় কেন কমে যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা এবং সময়মতো যাতে রাজ্যগুলি তাদের প্রাপ্য অর্থ পায় সেব্যাপারে সাহায্য করা।
এ বছর জুলাই মাস থেকেই জিএসটি আদায় নিম্নমুখী। জিএসটি আদায় কমে যাওয়ার ফলে অন্তত সাতটি রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যাচ্ছে না – তাদের বলা হয়েছিল বছরে ১৪% হারে বাড়বে জিএসটি আদায়।
পণ্য ও পরিষেবা করের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে বিলাসবহুল দ্রব্য। এই সব জিনিসের উপরে সেস চাপিয়েও রাজকোষে আয়ের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না সরকারের। এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “সেস বাবদ মোটামুটি ৭,৭২০ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এই আদায় মাসে সর্বোচ্চ দশ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ২০২০ সালের এপ্রিলে এই আদায়ের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা হতে হবে। তাই নতুন কাঠামোকে আরও যুক্তিপূর্ণ করতে হচ্ছে।”
বহু রাজ্যই জিএসটি বাবদ তাদের তাদের পাওনা অর্থ পায়নি, তাই ১৮ ডিসেম্বর গোয়ায় শুরু হতে চলা ৩৮ তম জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা। অগস্ট থেকেই কমেছে জিএসটি আদায়। উৎসবের সময়ও রাজস্ব আদায় কমেছিল, তাই আশঙ্কা করা হচ্ছিল দেশ ক্রমেই মন্দার দিকে যাচ্ছে কিনা। যদিও নভেম্বর মাসে কিছুটা হলেও আয় বেড়েছে সরকারের। তাই বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। তবে অন্তত তিন মাস এই ধারা বজায় থাকলে তবেই বলা যাবে -- অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে – মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ।