দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকার রকেট হানায় ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলেমানি মারা গিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। তারপরে থেকে একাধিকবার ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে আছড়ে পড়েছে ইরানের রকেট। সোমবারও বাগদাদের হাই সিকিউরিটি গ্রিন জোনে তিনটি রকেট আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রকেট হামলার পরেই কান ফাটানো আওয়াজে বেজে ওঠে সাইরেন। আমেরিকার দাবি, ইরানই ফের রকেট ছুঁড়েছে। ইরান থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
জেনারেল কাসেম সোলেমানি খুনের ঠিক চারদিনের মাথায় ইরাকের মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। স্থানীয় সময় রাত ১টা বেজে ২০ মিনিটে প্রথম হামলাটি হয়। দ্বিতীয় হামলা হয় তার ঠিক দু’ঘণ্টা পরে। ইরান দাবি করে, এই হামলায় ৮০ জন ‘মার্কিন জঙ্গি’ খতম হয়েছে। যদিও আমেরিকার তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, এই হামলায় একজন মার্কিন সেনারও মৃত্যু হয়নি। বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিকই আছে।
কাসেম হত্যার বদলা নিতে এলে ফল ভাল হবে না বলে দিন কয়েক আগেই তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোটা বিশ্বের মধ্যে মার্কিন বাহিনীই যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সুসজ্জিত তিনি ফের একবার তা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সোলেমানি হত্যা নিয়ে উত্তেজনার আবহে ইরানের তরফে এমন পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত ছিল, তাই ইরাকে সমস্ত সেনাঘাঁটিতে আগে থেকেই হাই অ্যালার্ট জারি ছিল বলে জানিয়েছিলেন পেন্টাগনের এক মুখপাত্র।
সোলেমানির মৃত্যুর পরই আন্দোলিত হয়ে উঠেছে তামাম উপসাগরীয় অঞ্চল। বাগদাদে হত্যা করা হয়েছিল সোলেমানিকে। এই অবস্থায় গোড়া থেকেই চাপে ছিল ইরাক। কিন্তু তার পর মুসলিম দেশগুলিতে এতোটাই ক্ষোভ উগরে উঠেছে যে শেষমেষ কদিন আগে ইরাকের সংসদেও প্রস্তাব পাশ করিয়ে বলা হয়েছিল যে তাদের দেশের মাটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
যদিও তখনও প্রশ্ন উঠেছিল যে সংসদ প্রস্তাব পাশ করলেই হবে না। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মেহেদি ওই প্রস্তাবে সই না করা পর্যন্ত নিশ্চিন্ত থাকতে পারে আমেরিকা। কিন্তু ঘটনা হল, মেহেদির নিজের গদিই নড়বড়ে। সংসদের গরিষ্ঠ সংখ্যক সদস্যের মতের কাছে নতি স্বীকার করা ছাড়া তাঁরও উপায় ছিল না।