দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে তিন দলের জোট সরকার ছ’-আট মাসের বেশি টিকবে না, শিবসেনা এনসিপি ও কংগ্রেসের জোটকে সুবিধাবাদী জোট বলে কটাক্ষ করে শুক্রবার এ কথা বলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই তিন দলের মধ্যে আদর্শগত কোনও মিল নেই, শুধুমাত্র বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতেই তারা জোট বেঁধেছে।
এখন ঝাড়খণ্ডে ভোটের প্রচারে রয়েছেন গড়কড়ি। এ মাসের ৩০ তারিখে ঝাড়খণ্ডে প্রথম দফা ভোটগ্রহণ। সেখানেই এক প্রশ্নের উত্তরে গড়কড়ি বলেন, “এই জোটের মূলে রয়েছে সুবিধা ভোগ করা। এই তিন দল এক হয়েছে শুধুমাত্র বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে। আমার এখনও সন্দেহ রয়েছে আদৌ সরকার হবে কিনা তা নিয়ে... যদি সরকার গঠিত হয় তবে তার আয়ু হবে ছয় থেকে আট মাস।”
আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে বিজেপিকে খোঁচা এনসিপির, মুখ্যমন্ত্রী হতে চান না উদ্ধব
মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় বিজেপি-শিবসেনার ভোটপূর্ব জোট ভেঙে যায়। বিজেপির তিন দশকের জোটসঙ্গীকে সমর্থন করার সিদ্ধান্তের জন্য দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে কংগ্রেসের অন্দরে। এখন শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোট যদি ভেঙে যায়, তারপরে বিজেপি কি সরকার গড়তে তৎপর হবে? গড়করি জানান, তেমন ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি বিচার করে তখন দলে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, “ক্রিকেট ও রাজনীতিতে যে কোনও কিছু হতে পারে।” তিনি বলেন, যে তিন দলের মধ্যে আদর্শগত বিপুল ফারাক রয়েছে তারা কী ভাবে একত্রিত হয়ে সরকার গঠন করবে, তা যে তাঁর কল্পনার অতীত। তিনি বলেন, “বিজেপি ও শিবসেনার জোটের ভিত্তি ছিল হিন্দুত্ব।”
মূলত শিবসেনার এই আদর্শগত অবস্থানের জন্যই তাদের সমর্থন করা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল কংগ্রেস। শোনা যাচ্ছে, শিবসেনাকে উগ্র হিন্দুত্বের পথ থেকে সরে আসতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে কংগ্রেস।
মুখ্যমন্ত্রী পদের মেয়াদ ভাগ করার যে দাবি শিবসেনা করছিল, তা মিথ্যা বলে জানিয়েছেন নীতিন গড়কড়ি। তিনি জানান, দলের সভাপতি ও অন্যরা চাইছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে হবে, কিন্তু তার পরে দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁর মতে, যে দল বেশি আসন পাবে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা সেই দল থেকেই। তা স্থির করার দায়িত্ব দলের সভাপতি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দলের রাজ্য সভাপতির। গড়কড়ি বলেন, “আমরা আমাদের কাজ করেছি।”
এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে কী হয়েছে জানতে চাওয়া হলে গড়কড়ি বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই।