দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেই এক ধর্মীয় গুরুর মৃত্যুতে জমায়েত করলেন কয়েক হাজার মানুষ! মধ্যপ্রদেশের কাটনির এই ঘটনায় চুলোয় গেল সামাজিক দূরত্ব মানার নিয়ম। কংগ্রেস হোক বা বিজেপি-- এই দুই দলের নেতামন্ত্রী থেকে বলিউজ সেলিব্রিটি, কে ছিলেন না সেই জমায়েতে! যদিও জেলা প্রশাসনের যুক্তি, লকডাউনের সমস্ত রকম সরকারি নিয়ম মেনেই নাকি আয়োজিত হয়েছিল এই জমায়েত।
জানা গেছে, রবিবার মারা যান ৮২ বছরের দেব প্রভাকর শাস্ত্রী বা 'দাদাজি'। তিনি এক স্বঘোষিত ধর্মগুরু ছিলেন। বহু শিষ্য ও অনুগামী ছিল তাঁর দেশজুড়ে। দীর্ঘ দিন ধরে ফুসফুস ও কিডনির অসুখে ভুগছিলেন তিনি। দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। তাঁর শারীরিক অবস্থা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছলে তাঁকে মধ্যপ্রদেশে ফিরিয়ে আনে প্রশাসন।
এর পরেই মারা যান তিনি, জড়ো হতে থাকেন বহু ভক্ত ও শিষ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর শেষকৃত্যের ছবি ও ভিডিও। সেখানেই দেখা যায়, দলে দলে শয়ে শয়ে মানুষ হাঁটছেন শেষযাত্রায়।
https://twitter.com/Anurag_Dwary/status/1262375552020811779
কাটনি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট শশীভূষণ সিং যদিও বলেছেন, "কেউ নিয়ম অমান্য করেননি। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংয়ের নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে।"
মধ্যপ্রদেশের প্রধানমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান, বিজেপির কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিগ্বিজয় সিংহ, কংগ্রেস নেতা কমল নাথ-- সকলেই উপস্থিত ছিলেন দাদাজির শেষযাত্রায়। অভিনেতা আশুতোষ রানাকেও দেখা যায় সেই ভিড়ে।
২৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টিকালীন লকডাউন শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কারণেই এই সিদ্ধান্ত। নিষিদ্ধ সমস্ত রকম জমায়েত ও ভিড়। কয়েক জন মিলে একসঙ্গে জটলা করাও বারণ। চলছে না গণপরিবহণ।
ইতিমধ্যেই এই লকডাউন তিনটি পর্যায় পার করে চতুর্থ দফায় শুরু হয়েছে ১৮ মে থেকে। চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। চতুর্থ দফার লকডাউনের গাইডলাইনে বলা হয়েছে, কেউ মারা গেলে তাঁর শেষকৃত্যেও ২০ জনের বেশি জমায়েত হতে পারবেন না। তবে কোথায় কতটা কড়াকড়ি হবে সে সিদ্ধান্ত রাজ্যগুলির হাতে দিয়েছে কেন্দ্র।
এই পরিস্থিতিতেই প্রায় কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত করলেন মধ্যপ্রদেশের ধর্মীয় গুরুর শেষযাত্রায়।