
রাজীব কুমার - ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 22 April 2024 22:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ সোমবার বাতিল করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের যে রায় বড়রকমের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে।
কেন?
কারণ, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে এখন মৌলিক প্রশ্ন হল, হাইকোর্টের নির্দেশে যাঁদের চাকরি গেল, তাঁরা কি ভোটের ডিউটি করতে রাজি হবেন? এবং তাঁরা যদি ভোটের ডিউটি করতে রাজি না হন, তাহলে শেষ মুহূর্তে ভোটের ডিউটি করতে কাদের পাঠানো হবে?
কমিশনের সামনে এও বড় প্রশ্ন হল, যাঁদের চাকরি বাতিল হল, তাঁদের কমিশন কোন যুক্তিতে ভোটের ডিউটি করতে বলবেন? কারণ তাঁরা তো আর সরকারি কর্মচারীই নন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন পষ্টাপষ্টিই জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাবে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট যদি হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয় তা হলে প্রায় ২৬ হাজার জনের আপাতত চাকরি থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানি করতে দেরি করলে বিষয়টি ঝুলে থাকতে পারে। অথচ চিন্তার ব্যাপার হল, রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট হল ২৬ এপ্রিল। এর মধ্যে সুপ্রিম কোনও নির্দেশ না দিলে কমিশন বিপাকে পড়তে পারে।
যে ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁদের মধ্যে ১২৯৪৬ জন সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছিলেন। নবম-দশম শ্রেণির জন্য শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন ৫৭৫৬ জন। গ্রুপ সি পদে ২০৬৭ এবং গ্রুপ ডি পদে ৪৫৫০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল।
শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা বহুদিনের নিয়ম। সহকারি শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার টু বা থ্রি পদে নিয়োগ করা হয়। আর গ্রপ সি ও ডি কর্মীদের ভোট কর্মী হিসাবে নিয়োগ করা হয়। তবে এই ২৫৭৫৩ জনের মধ্যে কতজনের ভোটের ডিউটি পড়েছিল সেই পরিসংখ্যান এখনও কমিশনের হাতে নেই। ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটের চার দিন আগেও কমিশনের কাছে পরিষ্কার নয় যে ভোটের ডিউটি থেকে কে কে ডুব দেবেন। সব মিলিয়ে এখন নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যার উত্তর খুঁজছে নির্বাচন কমিশন।
যদিও এই বিষয়ে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের অ্যাডিশনাল সিইও অরিন্দম নিয়োগী জানান, ''আমাদের ভোটকর্মীদের বেশ কিছুটা অংশ শিক্ষক-শিক্ষিকারা আছেন বটে, কিন্তু ভোট কর্মীদের ২০-২৫% রিজার্ভ থাকে। ফলে তা দিয়ে আমরা ভোট করাতে পারব।'' আরও জানান, ''রিজার্ভ ফোর্সে থাকা ভোটকর্মীদের ডিসি অফিসে রিপোর্ট করার চিঠি চলে গিয়েছে। তাঁরা ডিসি অফিসে চলে যাবেন। ভোটের ডিউটি বন্টনের দিন যাঁরা অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের রিজার্ভ ভোট কর্মী দিয়ে রিপ্লেস করা হবে।''