
শেষ আপডেট: 27 June 2019 05:58
এই দ্বীপে ১৮ই মে থেকে ২৬শে জুলাই সূর্য অস্তই যায় না! তাই সেখানকার প্রায় ৩০০ বাসিন্দার কাছে কোনও সময়ের বেড়াজালও নেই। তাঁরা যখন ইচ্ছে, যা ইচ্ছে করেন। ওঁদের ভাবতে হয় না এখন না গেলে বাজার উঠে যেতে পারে, স্কুলের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে, অফিসে ঠিক সময়ে না গেলে বস্ চারটে কথা শোনাবে। এসবের কোনও প্রয়োজনই নেই ওঁদের। যাঁর যখন ইচ্ছে করে তখন ঘুমোন, বাড়ি রঙ করেন বা বাগানের ঘাস পরিষ্কার করেন, বাড়ির কাজ করেন। তবে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি আবার ওঁরা অন্ধকারে ডুবেও থাকেন। কারণ তখন ওখানে আর সূর্য ওঠে না।
সেখানকার মানুষজনের কাছে সময়ের এই খামখেয়ালিপনা কোনও বড় বিষয়ও নয়। তাঁরা এখন চাইছেন তাঁদের এই জায়গাটাকে সরকারিভাবে ‘time free zone’ ঘোষণা করা হলে তাঁদের আরও সুবিধা হবে। গতমাসে তাঁদের টাউনহলে একটি মিটিঙে এই আলোচনা উঠে আসে। ওই দ্বীপেরই বছর ৫৬ এর জেল ভে ভেন্ডিং বলেন ‘lets stop the time’. ১৮৩২ সাল থেকে এই দ্বীপেই তাঁর পরিবার বাস করছে। তিনি বলছেন “আমাদের মতো ভাগ্যবান আর কেউ হয় তো পৃথিবীতে নেই। আমরা সূর্যের নানারকম রঙ এক এক সময়ে দেখতে পাই। যখন কমলা রঙের সূর্য দেখি, বুঝতে পারি সারা পৃথিবীতে এখন রাত্তির চলছে। আবার খুব গনগনে সূর্যে বুঝতে পারি আসলে এখন দিনের বেলা। তাছাড়া আমাদের এই জায়গার মূল পেশা মাছ ধরা এবং হোটেল ব্যবসা, তাই টাইম ফ্রি জ়োন হলে পর্যটন শিল্পে লাভ হতে পারে। ”
বহুবছর ধরে সেখানের মানুষজন যেভাবে চলে আসছেন, তাতে এই সরকারি শিলমোহরে আরও সুবিধা চান তাঁরা। এই জায়গায় এমনিতেই অনেক পর্যটকরা আসেন, এখানকার এই দিন রাতের লুকোচুরি দেখতে। আর এই ঘোষণা হলে তা যে নিঃসন্দেহে আরও কিছুটা বাড়বে তা বলাই যায়। তাই তাঁরা খুব বেশি করে এই বিষয়টা চান। নরওয়ের সংসদের এক ব্যাক্তির কাছে স্থানীয়রা এই আবেদন লিখিতভাবে জমাও দিয়েছেন। তাতে সেখানকার প্রায় ৩০০ বাসিন্দার সইও রয়েছে। এখন তাঁরা সময়েরই অপেক্ষায় আছেন কবে এই টাইম ফ্রি জ়োনের আওতাভুক্ত হবেন তাঁরা। এটা বাস্তবায়িত হলে তাঁদের আর স্কুল, কলেজ, অফিসের নির্দিষ্ট কোনও সময়ের গণ্ডি থাকবে না। নিজেদের সুবিধে মতো সেগুলো করতে পারবেন তাঁরা।
এতদিন ধরে এই জায়গা ‘land that time forgot’ বলেই পরিচিত ছিল। যে ব্রিজটি দিয়ে এই দ্বীপে পৌঁছন যায়, তাতে অনেক হাতঘড়ি পরপর সাজানো আছে দেখতে পাওয়া যায়। কারণ সেখানের মানুষের কাছে ঘড়ির কোনও প্রয়েজনই নেই যে। এই দ্বীপকে এখন অনেকেই বলেন সামার আইল্যাণ্ড। সারা বিশ্বের নিরিখে নরওয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুখী জায়গা হিসেবে। তাই এই ব্যবস্থা চালু হলে তা যে আরও কিছুটা বাড়বে, এমনটাই আশা করেন নরওয়ের মনুষজন। এখন দেখার যেখানে হোটেল বা বাড়িতে কেউ ঘড়ি দেখেন না, ‘ফিরে আসছি ঠিক ৬ টা বা ৭ টায়’ বলার বদলে বলেন ‘পরে ফিরে আসব’, সেখানে এই টাইম ফ্রি জ়়োন চালু হলে মানুষ আরও কতটা সুখের সন্ধান পান। সেটার জন্যও তো সময়েরই অপেক্ষা।