দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ সকালেই জানা গিয়েছে কলম্বাসের আন্দ্রে মরিস হিল নামের ৪৭ বছরের এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে মেরেছে পুলিশ। এই নিয়ে এই মাসে দু'জন কৃষ্ণাঙ্গ খুন হয়েছেন মার্কিন পুলিশের গুলিতে। বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়া একের পর এক মৃত্যুর জেরে 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলনে তোলপাড় মার্কিন মুলুকের একটা বড় অংশ।
এবার সেই বর্ণবিদ্বেষের আরও এক নগ্ন ও কুৎসিত ছবি সামনে এল। ইন্ডিয়ানার এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা চিকিৎসক সুসান মুর মৃত্যুর আগে দাবি করলেন, গায়ের রঙের কারণেই চিকিৎসাটুকু পাচ্ছেন না তিনি। কার্যত বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে ধুঁকতে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন করোনা আক্রান্ত এই চিকিৎসক। ২০ ডিসেম্বর সত্যিই মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে তাঁর করা ভিডিওটি সামনে এসেছে সম্প্রতি। সেটা ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

৫২ বছরের সুসান মুরের ওই ভিডিও বার্তা দেখে চোখে জল এসেছে বহু মানুষের। ওই ভিডিওয় সুসান জানিয়েছিলেন, তাঁকে চিকিৎসা পেতে রীতিমতো ভিক্ষা করতে হচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ চিকিৎসক তাঁকে ছুঁয়েও দেখছেন না, কোনও কথাও শুনছেন না! প্রচণ্ড ব্যথায় বারবার ডাক্তারকে ডাকলেও তিনি চিকিৎসা পাননি। এমনকি নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হওয়ায় তিনি একসময় কেঁদেও ফেলেছিলেন, তবু ওই শ্বেতাঙ্গ চিকিৎসক তাঁর কোনও শারীরিক পরীক্ষা করেননি বলেই ভিডিওয় দাবি করেছেন সুসান।
সুসানের ছেলের বয়স ১৯ বছর। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মা সুসান পেশায় একজন চিকিৎসক। এতদিন বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি। গত কয়েক মাস ধরেও টানা ডিউটি করেছেন করোনা বিভাগে। সেখান থেকেই সম্ভবত সংক্রামিত হন তিনি, এর ফলে গত ২৯ নভেম্বর সুসানের করোনা ধরা পড়ে। তাঁর জ্বর ছিল। কাশির সঙ্গে রক্ত উঠছিল। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। এই অবস্থায় ৪ ডিসেম্বর তাঁকে 'ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল নর্থ'-এ নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সুসান নিজে চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও হাসপাতালে কার্যত তাঁকে ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ তাঁর ছেলের।

সুসান ভিডিওতেও জানিয়েছিলেন, তাঁর ফুসফুসের স্ক্যান করা হয়নি প্রথমে। সেটি করতে এবং তার পরে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে রীতিমতো ভিক্ষা করতে হয়েছিল তাঁকে। সুসান বলে গেছেন, শ্বেতাঙ্গ চিকিৎসক এমন ভাব দেখাচ্ছিলেন যেন সুসান নেশা করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অথচ সেই চিকিৎসক কিন্তু জানতেন, সুসান নিজেও পেশায় চিকিৎসক।
সুসান ওই ভিডিওয় কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ''আমার মনে হয়েছে, আমার গায়ের রঙ সাদা হলে আমাকে এই কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হতো না। এই ব্যবহার পেতে হত না। এ দেশে কালো মানুষরা এভাবেই মরে যায়।''
দেখুন সুসানের সেই ভিডিও।
https://twitter.com/Cleavon_MD/status/1341440166452285441
সুসান মারা যাওয়ার পরে এই ভিডিও সামনে আসতেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। যদিও এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ আলাদা করে কিছু বলেননি। জানিয়েছেন, চিকিৎসায় পক্ষপাত হচ্ছে কিনা তা তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।