দ্য ওয়াল ব্যুরো : সংক্রমণ এড়াতে হলে ঘন ঘন হাত ধুয়ে ফেলুন। করোনাভাইরাসের অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে এমনই পরামর্শ দিয়েছে হু। কীভাবে হাত ধুলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যাবে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর জন্য ‘ফান ভিডিও’ বানিয়েছে কেরল পুলিশ। তাতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশকর্মীরা নেচে নেচে শেখাচ্ছেন, হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি কী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও ক্লিপ। হাজার হাজার মানুষ ক্লিপটি শেয়ার করেছেন। অনেকে মন্তব্যও করেছেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের হাঁচি, কাশি থেকে ছড়াতে পারে রোগ। জনস্বাস্থ্য দফতরের অফিসাররা বলেছেন, কিছুক্ষণ অন্তর হাত ধুয়ে ফেলুন। অন্যের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। কেরল পুলিশের ভিডিওটি স্টেট পুলিশ মিডিয়া সেন্টার শেয়ার করেছে। ক্লিপটি ১.০৪ মিনিটের। তাতে দেখা যায়, জনপ্রিয় ফিল্ম আয়াপ্পন্নুম কোশিইউম-এর একটি গানের সঙ্গে নাচছেন ছয় পুলিশকর্মী।
মঙ্গলবার পুলিশের ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে। ফেসবুকে এখনও পর্যন্ত তা দেখেছেন ৮ লক্ষ মানুষ। শেয়ার করেছেন ২৮ হাজার মানুষ। ভিডিও-র প্রশংসা করে কমেন্ট করেছেন ২ হাজার জন। একজন লিখেছেন, খুবই শিক্ষামূলক ভিডিও। দেখে আমরা উৎসাহিত হচ্ছি। আর একজন লিখেছেন, ‘নাচের কোরিওগ্রাফি দুর্দান্ত।’ আর একজন লিখেছেন, ‘ভাল উদ্যোগ’। কেরলে ২৪ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ এসেছে। সোমবার নতুন তিনজন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।
এর আগে কেরলে করোনা ঠেকাতে কাজে লাগানো হয়েছে রোবট। সরকারি সংস্থা ‘কেরল স্টার্টআপ মিশন (KSUM)’ দু’টি রোবটকে কাজে লাগিয়েছে। হাসপাতালে সংক্রমণ সন্দেহে রোগীরা এলে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া, মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি করা এমনকি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীদের খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার কাজও করছে এই রোবট-কর্মীরা।
কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর এই ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা গেছে লোকজনের মধ্যে মাস্ক বিলি করছে দু’টি রোবট। এই রোবট দুটি বানিয়েছে অ্যাসিমভ রোবোটিক্স। বর্তমানে কাজ করছে কেরল স্টার্টআপ মিশনের কমপ্লেক্সে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই রোবটদের ডেটা সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য ভরে দেওয়া আছে। কীভাবে রোগীদের পরিচর্চা করতে হবে, বাইরে থেকে আসা লোকজনকে মাস্ক দিতে হবে সবই করতে পারছে রোবট-কর্মীরা। করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতার পাঠ দিতেও কাজে লাগানো হয়েছে রোবট দুটিকে। আগামী দিনে এমন আরও রোবট নামানো হবে বলে জানিয়েছে অ্যাসিমভ রোবোটিক্স।
চিনের উহানে বিভিন্ন হাসপাতালেও কাজ করছে ডাক্তার-রোবটরা। কীভাবে রোগীদের আইসোলেশনে নিয়ে যেতে হবে, সেখানে কী কী করণীয়, কেমন ভাবেই বা হবে চিকিৎসা, সব শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই রোবটদের। সংক্রমণ কতটা হলে কী ওষুধ দিতে হবে সেটাও ভরে দেওয়া হয়েছে রোবটদের ডেটা সিস্টেমে। ৫-জি পাওয়ারের রোবট। এ টু জেড সব কাজ করতে পারে। ডাক্তারি তো বটেই। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী থেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও তাদের। যান্ত্রিক হাত বাড়িয়ে রোগীদের নির্দ্বিধায় ছুঁচ্ছে এই রোবটরা। শরীরের তাপমাত্রা মাপছে, ওষুধও দিচ্ছে। সময় হলেই খাবারের থালা সাজিয়ে রোগীদের সামনে হাজির করছে ডাক্তার-রোবটরা। রোগীদের জামাকাপড় কাচা, তাদের পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও এদেরই ওপরে।