
শেষ আপডেট: 19 March 2023 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্মশান (Crematorium)। শব্দটা শুনলেই মনের ভিতর কেমন কু-ডাক ডেকে ওঠে। আসলে শ্মশানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে মৃত্যু। আর সেই চিন্তা মাথায় এলেই ভারাক্রান্ত হয়ে যায় মন। শ্মশানের কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান, কেউ কেউ তো রীতিমতো এড়িয়ে চলেন শ্মশানের পাশের রাস্তা। কিন্তু জানেন কি, এই দেশেই আছে এমন একটি শ্মশান, যেখানে মানুষ যে শুধুই প্রিয়জনের শেষকৃত্য করতে যান তা নয়। বরং পিকনিক, প্রি-ওয়েডিং ফটোশ্যুট, এমনকী, জন্মদিন উদযাপন করতেও শ্মশানে গিয়ে হাজির হচ্ছেন মানুষজন।

ভাবছেন, একি বাস্তব, নাকি গল্পকথা! গল্প নয়, বরং একশো শতাংশ সত্যি। গুজরাতের (Gujarat) বনস্কণ্ঠ জেলায় বনস নদীর ধারে রয়েছে এমনই একটি শ্মশান, যা রীতিমতো পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মানুষের কাছে। দিশা ক্রিমেটোরিয়াম (Disa Crematorium) নামে ওই শ্মশানের এমন জনপ্রিয়তার রহস্য হল সেটির নান্দনিকতা এবং পরিষেবা। ১৪ বিঘা জমির উপর এই শ্মশান তৈরির কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এটি তৈরিতে খরচ হচ্ছে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা। এই শ্মশানে প্রিয়জনের শেষকৃত্য (Funeral) তো করা যাবে বটেই, সঙ্গে বই পড়া, বিশ্রাম নেওয়া, এমনকী, শিশুদের খেলাধুলা করার জন্যও ব্যবস্থা রয়েছে। এক কথায়, শ্মশানের ধারণাই বদলে দিয়েছে দিশা ক্রিমেটেরিয়াম।

শ্মশানের প্রবেশদ্বারটি দেখলে মনে হবে সেটি কোনও বিলাসবহুল রিসর্টে ঢোকার রাস্তা। শ্মশানের পুরো অংশটি দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি অংশ সম্পূর্ণভাবে শেষকৃত্যের জন্য। অন্য অংশটি তৈরি করা হয়েছে পিকনিক এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে।

শেষকৃত্যের জন্য যে অংশটি, সেখানে সিমেন্টের তৈরি ডোম আকৃতির ঘরে তৈরি করা আছে একের পর এক চুল্লি। শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের আলাদাভাবে দাহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে একটি প্রার্থনার ঘর, বয়স্কদের জন্য গ্রন্থাগার, বিশালাকার বাগান, শিশুদের খেলার জায়গা, একটি মেমোরিয়াল, স্নানাগার এবং ওয়াশরুম।

শ্মশানে বিভিন্ন এলাকার দেওয়ালে দেওয়ালে ফুটে উঠেছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার ছবি। একটি পাতকুয়ো এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে শ্মশানে।

এখনও পর্যন্ত শ্মশান তৈরির কাজ ৮০% শেষ হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে দিশা ক্রিমেটোরিয়ামের আশ্চর্য পরিষেবা এবং সুযোগ-সুবিধার গল্প। এখানে মৃতদেহ সৎকার করার জন্য মাত্র ১ টাকা দিতে হয়। তাই দাহকার্যের জন্য তো বটেই, অবসর যাপনের জন্যও সাধারণ মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে।

সোজা ভাষায়, শ্মশান শব্দটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আতঙ্ক, দীর্ঘশ্বাস ভুলে দিশা ক্রিমেটোরিয়ান হয়ে উঠেছে শান্তির ঠিকানা। যাঁরা প্রিয়জনকে এখানে চিরঘুমে রেখে যাবেন তাঁদের তো বটেই, সেইসঙ্গে যাঁদের সঙ্গে এমন কিছু ঘটেনি, তাঁদের কাছেও বিশেষ দিনগুলি উদযাপনের নতুন দিশা দেখাচ্ছে 'দিশা'।

বসন্ত ছুঁয়ে ফের শীত পাহাড়ে! বরফ পড়ছে দার্জিলিঙে, সাদা হয়ে গেছে পথঘাট, চলছে না গাড়িঘোড়া