দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডবল ইঞ্জিন, মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট। ক্ষিপ্র গতি, নির্ভুল নিশানা। ওজনে ভারী, ৯ টন অবধি ক্ষেপণাস্ত্র বইতে সক্ষম। তেজসের এই নতুন প্রজন্মের নকশা তৈরি। ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্র ভাণ্ডারে যোগ দেওয়া আর কয়েক বছরের অপেক্ষা। শক্তিতে এবং আক্রমণের ক্ষমতায় তেজসের এই সুপারসনিক এয়ারক্র্যাফ্ট হবে রাফালের থেকেও এককাঠি উপরে। ভারতীয় বায়ুসেনাকে করবে অপরাজেয়। চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হবে শত্রুপক্ষের।
শব্দের থেকে দ্রুতগামী পৃথিবীর সব থেকে হালকা যুদ্ধবিমান তেজস। এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে বানানো দ্বিতীয় যুদ্ধবিমান। তবে তেজসের এই উন্নত সংস্করণ হবে তেজস এমকে-১ (ওজনে ১৩.৫ টন) ও তেজস এমকে-২ ( ওজনে ১৭.৫ টন) ফাইটার জেটের চেয়ে ওজনে ভারী। তেজসের এই ভ্যারিয়ান্টের ওজন হতে চলেছে প্রায় ২৩ টনের কাছাকাছি। তার উপর ৯ টন অবধি ক্ষেপণাস্ত্র বইতে সক্ষম হবে সে। এই তেজস ভ্যারিয়ান্টের নৌসেনার ‘টুইন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF)’ জেট ও বায়ুসেনার ‘এয়ার ফোর্স ওমনি রোল ফাইটার’ জেটের নকশা বানিয়ে ফেলেছে অ্যারোনটিক্যাল ডিজাইন এজেন্সি (ADA) এবং হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)।

সূত্রের খবর, দেশের প্রতিরক্ষার বাজেটকে ছাপিয়ে যাবে না তেজসের এই নয়া ভ্যারিয়ান্ট। বরং ফ্রান্সের সঙ্গে রাফালের চুক্তির চেয়েও কম খরচে বানানো যাবে এই ফাইটার জেট। হ্যালের তরফে জানানো হয়েছে, ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ভারতের চুক্তি হয়েছিল মোট ৫৯ হাজার কোটির। তেজসের নয়া এয়ারক্রাফ্ট বানাতে খরচ পড়বে ১৩ হাজার কোটিরও কম। ভারতীয় বায়ুসেনা ও নৌসেনার উপযোগী করে বানানো হবে এই যুদ্ধবিমানগুলিকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদন পেয়ে গেলে জোরকদমে এই যুদ্ধবিমান তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
রাফালের চেয়েও শক্তিশালী হবে তেজসের নয়া প্রজন্ম
সামরিক পরিভাষায় রাফালকেও বলে ‘মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট’ বলা হয়। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধজাহাস ধ্বংস করা, মিসাইল নিক্ষেপ এমনকী পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের। তেজসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, শত্রুপক্ষের নজরদারির বাইরে থেকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে পারে তেজস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্ষিপ্র গতির তেজসকে একে টার্গেট করা যেমন অসম্ভব, তেমনি আকাশে একে ধাওয়া করে যাওয়ায় বেশ কঠিন। তেজসের ককপিটে থাকা পাইলট সহজেই শত্রুপক্ষের মিসাইলের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারেন লহমায়।
তেজস ভ্যারিয়ান্টের ন্যাভাল প্রোটোটাইপের পরীক্ষায় প্রথমে আমেরিকার বানানো জেনারেল ইলেকট্রিক এফ ৪০৪-জিই-আইএন২০ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন লাগানো হয়েছিল। পরে দেখা যায়, তেজসের পরিকাঠামোর সঙ্গে এই ইঞ্জিন খাপ খাচ্ছে না। পরে জেনারেল ইলেকট্রিক এফ ৪১৪ দু’টি ইঞ্জিন লাগানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যুদ্ধজাহাজ থেকে ওঠা-নামার সময় এই ইঞ্জিন আবহাওয়ার যে কোনও পরিস্থিতিতে এয়ারক্রাফ্টকে সচল রাখবে।

তেজসের এয়ার ফোর্সের প্রোটোটাইপের নকশাও তৈরি। হ্যাল জানিয়েছে, মিগ-২৯কে ফাইটার জেটের থেকেও আকারে বড় হবে তেজসের এই ভ্যারিয়ান্ট। আকাশে এর সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় দু’হাজার কিলোমিটার। এই যুদ্ধিবিমানে থাকবে গ্লাস-ককপিট, অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড রেডার (AESA) যা লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারবে আকাশ, জল, স্থল যে কোনও দিক থেকে। এর মধ্যে বিয়ন্ড ভিসুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) মিসাইন বা দৃষ্টির সীমার বাইরে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বুড়ো মিগকে সরিয়ে নতুন ফাইটার জেটের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। এই বছরের মধ্যে মিগের পুরনো ভ্যারিয়ান্টের বেশিরভাগই বাতিলের খাতায় চলে যাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৭৫০ এয়ারক্রাফ্ট বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে বায়ুসেনার। যার মধ্যে সুখোই ৩০ এমকেআইও রয়েছে। যার জায়গা নেবে ফ্রান্সের তৈরি রাফাল ফাইটার জেট। আগামী আরও কয়েক বছরের মধ্যে রাফালের জায়গা দখল করে নেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডবল ইঞ্জিন, মাল্টিরোল-সুপারসনিক তেজসের এই নতুন প্রজন্ম। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে ভারতীয় বাহিনী।