
শেষ আপডেট: 5 June 2023 07:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ২০১৪। আমাদের সৌরমণ্ডল থেকে ৪০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে এক পাথুরে গ্রহের (WASP-18 b) খোঁজ পান মহাকাশবিজ্ঞানীরা। ভিন গ্রহের (Exoplanet) সন্ধানে মহাকাশে তাক করেই বসে আছে নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। তাতেই ধরা পড়ে এবড়ো খেবড়ো পাথুরে এক গ্রহ গনগনে আঁচ নিয়ে তার নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরে চলেছে। চমকটা সেখানে নয়। আসল চমক হল পৃথিবীর থেকে আড়েবহরে বড় তো বটেই, বৃহস্পতির থেকেও ভারী এই গ্রহ অনেকটা পৃথিবীরই মতো। জল আছে, গ্যাসীয় মেঘ তৈরি হয়। ঝড় বয় শোঁ শোঁ করে।
এক্সোপ্ল্যানেটের খোঁজে গত ২০ বছর ধরে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। হাজারখানেক এমন গ্রহের সন্ধানও মিলেছিল। তবে ২০০৯-এ নাসার কেপলার অভিযান শুরু হলে মাত্র চার বছরেই আরও সাড়ে তিন হাজার ভিনগ্রহের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তাদের বিচিত্র গল্প, অজানা রহস্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গ্রহ পৃথিবী থেকে মাত্র ৪০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। পৃথিবী যেখানে ২৪ ঘণ্টায় নিজের অক্ষের চারদিকে পাক খেয়ে আসে, অর্থাৎ পৃথিবীতে একদিন হয় ২৪ ঘণ্টায়, এই গ্রহে একদিন হয় ২৩ ঘণ্টায়।

পৃথিবীর মতোই এই গ্রহরা বারে বারে চমকে দিয়েছেন বিজ্ঞানীদের
আমাদের পড়শি কোনও গ্রহের পরিবেশ যদি মনোরম হয়, বেশ হাওয়া-বাতাস খেলে, তাপমাত্রাও অনেকটা পৃথিবীর মতোই হয় তাহলে সেই গ্রহের আঁতিপাঁতি বিশ্লেষণ করে সেখানে প্রাণ ধুকপুক করছে কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা অবজারভেটরির মূল লক্ষ্য। তেমন কাজই বছরের পর বছর ধরে করে আসছে নাসা। তবে এবার তার লেন্সে ধরা পড়েছে এক অদ্ভুত এক্সোপ্ল্যানেট বা ভিন্ গ্রহ (Exoplanet)। এমনিতে সে বাধ্য গ্রহের মতোই নাম না জানা এক নক্ষত্রের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পাক খাচ্ছে। তবে চমকে দওয়ার মতো বিষয় হল এই গ্রহের অন্দরে ঘটে চলা আবহাওয়ার পরিবর্তন। এমন খামখেয়ালি আবহাওয়া এর আগে কোনও ভিন্ গ্রহের মধ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। এই গ্রহের নাম ওয়াস্প-১৮বি (WASP-18 b)।
মহাকাশে ইডলি-ধোসা চলবে না, সিদ্ধ চিকেনের সঙ্গে আর কী কী থাকছে গগনযানের মেনুতে
উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। গনগনে তেজ। আড়েবহরে অনেকটাই আমাদের সৌরমণ্ডলের বৃহস্পতি গ্রহের মতো। কিন্তু এর স্বভাব অশান্ত। এই গ্রহের সংসারে চোখ রেখে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা। আবহাওয়ার একী বৈচিত্র্য। ঝড় বইছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তাপমাত্রার পারদ উঠছে চড়চড়িয়ে। আকাশ থেকে নেমে আসছে আগুনে বৃষ্টি। তবে গ্রহের যে দিকটা তার নক্ষত্রের দিকে আছে সেখানে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেশি, ১০০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। তবে অন্য পিঠটা অনেক শান্ত।
এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ট্রোপোস্ফিয়ার আছে, তার ওপরে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার আছে। সেখানে আবার জলীয় বাষ্পও জমে আছে। মহাজাগতিক বিকিরণ এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে ছিঁড়েখুঁড়ে দিতে পারেনি। পুরু হয়ে জড়িয়ে রয়েছে গ্রহকে। তার মানে কি চুপি চুপি প্রাণের জন্ম হয়েছে গ্রহের গর্ভে? আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা।