দ্য ওয়াল ব্যুরো : ৪৫ বছর আগে এক বিকালে সামার স্কুল থেকে বেরিয়েছিল ১১ বছরের লিন্ডা ওকোফি। পরে তার আর খোঁজ মেলেনি। আমেরিকার ক্যলিফোর্নিয়ার মেয়ে ছিল সে। সে নিরুদ্দেশ হওয়ার পরে রীতিমতো তোলপাড় হয়। কয়েকদিন বাদে সমুদ্রতটে পাওয়া গিয়েছিল তার দেহ। কিন্তু খুনিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওকোফি খুনের ঘটনা রহস্য হিসাবেই থেকে গিয়েছে চার দশকের বেশি সময় ধরে।
ওকোফি যে এলাকায় খুন হয়, সেখানকার নিউপোর্ট বিচ থানায় দীর্ঘকাল ধরে তার একটি হাসি হাসি মুখের ছবি টাঙানো ছিল। তা দেখে গোয়েন্দাদের মনে পড়ত, এই খুনের কোনও মীমাংসা হয়নি। কিন্তু গত বুধবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ দাবি করেছে, ওকোফিকে খুনের দায়ে কলোরাডো থেকে এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। সে ১৯৭৩ সালে ওই ১১ বছরের বালিকাকে খুন করেছিল।
আমেরিকার বেশ কয়েকজন নাগরিক তাঁদের পুর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানার জন্য সরকারের কাছে নিজেদের ডিএনএ-র নমুনা জমা দিয়েছেন। ওকোফির মৃতদেহে পাওয়া খুনির ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল আগেই। যারা ডিএনএ-র নমুনা জমা দিয়েছেন, তাদের একজনের সঙ্গে ওকোফির খুনির ডিএনএ-র মিল পেয়েই নড়েচড়ে বসেন গোয়েন্দারা।
অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি টড স্পিতজার বলেন, ডিএনএ-র মিল পেয়েই গোয়েন্দারা ফের তদন্ত শুরু করেন। ডিএনএ-র নমুনার সাহায্যে আমরা এখন এমন অনেক কেসের সমাধান করতে পারি যেগুলোর কিনারা করার আশা সকলে ছেড়েই দিয়েছিল। সেগুলোকে বলা হত কোল্ড কেস।
খুনির নাম জেমস নিয়েল। বয়স ৭২। কলোরাডো স্প্রিংস নামে এক জায়গা থেকে সে গ্রেফতার হয়। নিয়েল যে বাড়িতে ভাড়া থাকত, তার মালিক বলেছেন, তাকে দেখে তো ভালো লোক বলেই মনে হত। আমি ভাবতেই পারিনি, সে খুনখারাপি করতে পারে।
নিয়েলের জামাই জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবার এখন এসম্পর্কে মন্তব্য করার মতো অবস্থায় নেই। নিয়েলের হয়ে কোনও আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয়েছে কিনা জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা যায়।
একইসঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে আর একটি বহু পুরানো খুনের ঘটনারও কিনারা করা গিয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ১৯৯০ সালে লস এঞ্জেলিসে ১১ বছরের এক বালক খুন হয়। পুলিশের দাবি, খুনের দায়ে ধরা পড়েছে এডওয়ার্ড ডোনেল টমাস নামে এক ব্যক্তি। তার বয়স ৫০। যে বালককে সে খুন করেছিল, তার নাম উইলিয়ম টিলেট।