করোনাভাইরাস আক্রান্ত তৃতীয় ভারতীয়, জাপান ফেরত জাহাজে বাড়ছে সংক্রমণ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে দু’জন। ধীরে ধীরে সংখ্যাটা বাড়ছে। সমুদ্রের বুকে কোয়ারেন্টাইন করা জাহাজে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় যাত্রীরাও। জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ভারতীয় মহিলা অফিসার সোনালি ঠাক্কারকে ইতিমধ্যেই আইসোলেশন কেবিনে রাখা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 13 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে দু’জন। ধীরে ধীরে সংখ্যাটা বাড়ছে। সমুদ্রের বুকে কোয়ারেন্টাইন করা জাহাজে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় যাত্রীরাও। জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ভারতীয় মহিলা অফিসার সোনালি ঠাক্কারকে ইতিমধ্যেই আইসোলেশন কেবিনে রাখা হয়েছে। শুক্রবার আরও একজন ক্রু মেম্বারের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলল। সব মিলিয়ে তিনজন ভারতীয়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের টেস্ট পজিটিভ।
সমুদ্রের বুকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা প্রমোদতরী। ক্রু মেম্বার, যাত্রী মিলিয়ে ভিতরে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার। উদ্ধারকারী জাহাজের দেখা নেই, সরকারের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেই ব্যাপারেও আঁধারে যাত্রীরা। তারই মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে হুহু করে। কেবিনে বন্দি যাত্রীরা। আক্রান্তদের আলাদা করে রাখা হচ্ছে আইসোলেশন কেবিনে। চিকিৎসার সুব্যবস্থাও নেই, বাড়ি ফেরার রাস্তাও কার্যত বন্ধ। সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন জাহাজে আটকে পড়া যাত্রীরা।
বিনয় কুমার সরকারের পরে ভারতীয় মহিলা অফিসার সোনালি ঠাক্কার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিও করে বাড়ি ফেরার তীব্র আর্তি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জাহাজে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে। তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় যাত্রীরাও। জাহাজে এই মোট যাত্রী সংখ্যা ২,৬৬৬ জন। যার মধ্যে ১৬০ জন ভারতীয়। ক্রু মেম্বাররা রয়েছে ১,০৪৫ জন। ভারতীয় ক্রু মেম্বারদের মধ্যে তিনজনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। সব মিলিয়ে সংক্রামিতের সংখ্যা ১৭৫ ছাড়িয়েছে।

দিনকয়েক আগেই এক ভিডিও বার্তায় বাড়ি ফেরার কাতর আর্জি জানিয়েছিলেন ওই জাহাজের ক্রু মেম্বার বিনয় কুমার সরকার-সহ পাঁচজন ভারতীয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করে জাহাজে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।
গত ২০ জানুয়ারি জাপানের ইয়োকোহামা থেকে রওনা দেয় ডায়মন্ড এক্সপ্রেস। ২৫ জানুয়ারি জাহাজে ওঠেন হংকংয়ের এক যাত্রী। কিছুদিনের মধ্যেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। পরীক্ষা করে দেখা যায় ওই যাত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সংক্রমণ নিয়েই জাহাজে উঠেছিলেন। তারপর থেকেই যাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। প্রথম দফায় ৪১ জনকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়, এখন সেই সংখ্যা বেড়েছে। সন্দেহের তালিকায় আরও ৩৫৬ জন। দু’সপ্তাহের জন্য সমুদ্রের মাঝে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে জাহাজ। যাত্রীদের অভিযোগ, ভেতরে আইসোলেশন ওয়ার্ড বা উন্নত চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থাই নেই। ফলে ভাইরাস কার্যত তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেছে জাহাজের ভেতরে। প্রায় প্রতিদিনই নতুন একজন করে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে।
কিছুদিন আগেই এই জাহাজেরই এক ব্রিটিশ যাত্রী ফেসবুক পোস্ট করে জাহাজের ভিতরের অবস্থার কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বেশিরভাগ যাত্রীর অবস্থাই শোচনীয়। সকলেই তাঁদের নির্দিষ্ট কেবিনে আটকে রয়েছেন। বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। উদ্ধারের কী ব্যবস্থা হচ্ছে সেই ব্যাপারেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন জাহাজের নাবিকরা। দু’সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমাও পেরিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।