দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহে চেন্নাইতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মিজোরামের এক যুবক। তাঁর দেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই থেকে রওনা হয়েছিলেন দুই ড্রাইভার। লকডাউনের মধ্যে দীর্ঘ ৩ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়েবুধবার তাঁরা পৌঁছলেন যুবকটির বাড়িতে। তাঁর বাড়ির লোকের হাতে তুলে দিলেন কফিন।
এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা। তাতে দেখা যাচ্ছে, লকডাউনের মধ্যে আইজলের শুনশান রাস্তা দিয়ে এগচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। অপর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সটি পার্ক করা আছে কয়েকটি বাড়ির সামনে। অনেকে হাততালি দিয়ে দুই চালককে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
https://twitter.com/ZoramthangaCM/status/1255073187949314048
https://twitter.com/ZoramthangaCM/status/1255073187949314048
জোরামথাঙ্গা লিখেছেন, "মিজোরাম এইভাবেই বাস্তবের হিরোদের অভ্যর্থনা জানায়। আমরা মানবতা ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী।" পরে তিনি লিখেছেন, "দুই চালককে ধন্যবাদ জানাই।"
মৃতের নাম ভিভিয়ান লালরেমসেঙ্গা। বয়স ২৮। তাঁর বাড়ি আইজলের মডেল ভেঙ্গ অঞ্চলে। তিনি ২৩ এপ্রিল চেন্নাইতে মারা যান। সেখানে এক বেসরকারি সংস্থায় তিনি চাকরি করতেন। চেন্নাইতে তাঁর দেহটি সমাহিত করার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। তখন স্থির হয় মৃতদেহ আইজলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে অতদূর কফিন নিয়ে যাওয়া ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ।
দুই ড্রাইভার, জয়ন্তীরাজন এবং চিন্নাথাম্বি অ্যাম্বুলেন্সে ওই রাস্তা পাড়ি দিতে রাজি হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মৃতের এক বন্ধু। তাঁর নাম রাফায়েল মালচানহিমা। তাঁরা মোট ৮৪ ঘণ্টা ড্রাইভ করে বুধবার সকালে আইজলে পৌঁছান। কফিনটি মৃতের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা দেহটি সমাধি দেন।
চেন্নাই থেকে আইজন যাওয়ার পথে কলকাতা, শিলিগুড়ি ও গুয়াহাটিতে বসবাসকারী মিজোরা তিনজনকে অভিনন্দন জানান। দুই চালককে মিজোরাম সরকার ২ হাজার টাকা করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে দেওয়া হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের খরচ ও মিজোদের পোশাক। এছাড়াও তাঁরা পাবেন মেমেন্টো।