দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আপনি কি রক্তে ভেজা প্যাড নিয়ে বন্ধুর বাড়ি যান? তা হলে মন্দিরে কেন যাবেন?"-- এই ছিল তাঁর মন্তব্য। যার জেরে রীতিমতো ঝড় বয়ে গিয়েছে সংবাদমাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায়। মঙ্গলবার প্রায় সারা দিনই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন এই মন্তব্যের মালকিন, প্রাক্তন অভিনেত্রী এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।
যদিও খবর প্রকাশের কিছু ক্ষণের মধ্যেই তিনি একে 'ফেক নিউজ়' বলে ঘোষণা করেন টুইটারে, প্রতিশ্রুতিও দেন তাঁর বক্তব্যের 'আসল ভিডিও' পোস্ট করার। তাতেও অবশ্য থামেনি একের পর এক সমালোচনার তির।
অবশেষে জবাব দিলেন স্মৃতি। টুইটারেই। কড়া এবং দীর্ঘ। টানা ছ'টি টুইটের মধ্যে প্রথমটিতে একটি ভিডিও পোস্ট করেন স্মৃতি। মুম্বইয়ের যে কনফারেন্সে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই কনফারেন্সের গোটা বক্তব্যই রয়েছে তাতে। সেখানেই শবরীমালা-কাণ্ড নিয়ে স্মৃতির প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তিনি মিনিট তিনেক এই প্রসঙ্গে কথা বলেন। তখনই, ১৩-১৪ মিনিটের মাথায় নিজের ধর্মবিশ্বাস ও অভ্যেসের কথা উল্লেখ করে, ওই বিতর্কিত মন্তব্যটি করে বসেন স্মৃতি।
দেখে নিন স্মৃতির টুইট করা সেই ভিডিও।
https://www.facebook.com/ORFMumbai/videos/289640451877547/
স্মৃতি নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখেছেন, "আমার মন্তব্যের উপরে সকলে মন্তব্য করছেন। এবার আমি নিজে কিছু মন্তব্য করতে চাই আমার নিজের মন্তব্য নিয়ে।" তিনি জানান, আজন্ম এক জন হিন্দু ধর্মের নারী হিসেবে এবং বিয়ের পরে জ়োরোস্ত্রিয়ান ধর্ম অভ্যেস করার সুবাদে তিনি কখনওই মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করার অনুমতি পাননি।
স্মৃতির আরও বক্তব্য, "আমি জ়োরোস্ত্রিয়ান ধর্মের রীতিনীতিকে সম্মান করি। আমি দু'-দু'টো জ়োরোস্ত্রিয়ান সন্তানের মা হওয়ার পরে কোনও আদালতে গিয়ে প্রার্থনা করার অধিকার চাইনি। ঠিক তেমনই, যে কোনও ধর্মের, যে কোনও বয়সের যে কোনও ঋতুমতী মহিলারই মন্দিরে যাওয়ার অধিকার নেই।" এই অংশে 'ডু নট' শব্দটিকে বড় হাতের লিখে অতিরিক্ত জোর দিয়েছেন স্মৃতি। সেই সঙ্গে বলেছেন, "এই দু'টোই আমার তথ্যনির্ভর ভাবে দেওয়া ব্যক্তিগত বিবৃতি কেবল। এটাকে অস্ত্র করে যে যে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলো আসলে টোপ। ...শুধুই টোপ।"
এখানেই শেষ নয়। ফের টুইট করেছেন তিনি। বলেছেন, "রক্তে ভেজা স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে কেউ বন্ধুর বাড়ি যান কি না-- এই প্রশ্ন তোলার কারণে যাঁরা এভাবে আমার দিকে বন্দুক তাক করেছেন, তাঁদের আমি এখনও বলছি, আমি সত্যিই জানতে চাই, বন্ধুর জন্য কে নিয়ে যায় রক্তে ভেজা ন্যাপকিন!"
স্মৃতির শেষ টুইট, "কিন্তু আমায় যেটা সব চেয়ে অবাক করল, মহিলা হিসেবে আমার নিজস্ব কোনও দৃষ্টিকোণ থাকতেই পারে না! যত ক্ষণ আমি 'উদারমনস্ক' মতামতের সঙ্গে একমত হতে পারব, তত ক্ষণই আমি গ্রহণযোগ্য থাকব। এটা কেমন 'উদারমনস্কতা' হলে?"
ঘটনার পরে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া এবং প্রায় ঘণ্টা পাঁচেক পরে নিজের টুইটারে এমন দীর্ঘ বিবৃতি দেওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, বেকায়দায় পড়েছেন স্মৃতি ইরানি। সে জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করার সময় নিতে হল। সাংবাদিকদের প্রশ্ন-পাল্টা-প্রশ্ন এড়িয়ে টুইটারেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হল। এবং স্মৃতির বক্তব্য থেকে আর একটি বিষয়ও স্পষ্ট, মন্তব্য যতই ঝড় তুলুক সমালোচনার, তিনি তা থেকে সরছেন না। মনোভাব বদলানো অনেক দূরের কথা।
প্রশ্ন উঠেছে, একদা অভিনেত্রী হিসেবে আদৃত স্মৃতি তাঁর নিজস্বতা ও চেতনার বিশিষ্টতা দিয়ে বড় অংশের মানুষের মন জয় করে নিলেও, এখন কেন সে সব বিসর্জন দিচ্ছেন? নারী ক্ষমতায়নের দাবিতেও যিনি সক্রিয় হয়েছেন নানা সময়ে, তিনি কী করে এমন মন্তব্য করলেন? কী করে সমর্থন করলেন মন্দির কর্তৃপক্ষের তৈরি অযৌক্তিক ভেদাভেদকে?
এক জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা আপনার উচিত নয়, এ কথা জানেন স্মৃতি। অনুষ্ঠানের বক্তব্যে এ কথাও বলেছেন, যে আদালতের রায়ের বিরোধিতা তিনি করছেন না। কিন্তু যাঁরা আদালতের রায়ের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের বিরোধিতাও যে করছেন না, তা-ও সুকৌশলে বুঝিয়ে দিয়েছেন স্মৃতি। এমন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে দলের ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া তাঁর পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক বলেই মনে করছেন সকলে।
দেখে নিন স্মৃতির বাকি টুইটগুলি।
https://twitter.com/smritiirani/status/1054722071236931585
https://twitter.com/smritiirani/status/1054722334303633408
https://twitter.com/smritiirani/status/1054722444962000896
https://twitter.com/smritiirani/status/1054722693260554242
https://twitter.com/smritiirani/status/1054723018763784192