দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঁচে থাকার লড়াই চালাচ্ছেন তাঁরা। ঘর হারিয়ে, স্বজন হারিয়ে, দেশ হারিয়ে আশ্রয় পেয়েছেন বিভুঁইয়ের মাটিতে। ঘর হয়নি, শিবির হয়েছে। গায়ে জুড়েছে 'শরণার্থী'র ট্যাগ। সংখ্যাটা কম করে দশ লক্ষ। একসঙ্গে গাদাগাদি করে কোনও রকমে মাথা গুঁজে থাকা শিবিরে। কিন্তু তাই বলে উৎসব তো থেমে থাকে না। উৎসবের আলোও ম্লান হয় না কোথাও। সেই আলোতেই উজ্জ্বল হাসি ফুটেছে বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দাদের।
মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে নির্যাতিত ও বিতাড়িত তাঁরা। বাংলাদেশ সরকারের আশ্রয়ে দিন গুজরান করছেন। মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, তবে রয়েছেন কিছু সংখ্যক হিন্দু রোহিঙ্গা শরণার্থীও৷ তাই বাংলার বাতাসে যখন উৎসবের আমেজ, তখন বিশ্বের বৃহত্তম উদ্বাস্তু-দেশহীন মানুষের এই আশ্রয়স্থলেও আয়োজন করা হয়েছে দুর্গাপুজোর৷ আড়ম্বর কম, আয়োজন সীমিত৷ কিন্তু খামতি নেই আন্তরিকতায়, কমতি নেই আনন্দে। স্থানীয় প্রশাসন মণ্ডপ তৈরি থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছে। প্রায় ৪৫০ জন রোহিঙ্গা উৎসব পালন করছেন৷ অংশ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
পূজা মণ্ডপ থেকে শুরু করে পুরো হিন্দু ক্যাম্পটি সাজানো হয়েছে রঙিন সাজে। জেলা প্রশাসক, পূজা উদযাপন কমিটি-সহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের দেওয়া হয়েছে নতুন জামা, খাবারদাবার-সহ নানা উপহার সামগ্রী। তারা যেন নিরাপদে নিজেদের মতো উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তায়।
শিবিরের বাসিন্দারা বলছেন, মায়ানমার নিজের দেশ হলেও সেখানে প্রতি মুহূর্তে সঙ্গী ছিল মৃত্যুভয়। দুর্গাপুজো দূরের কথা, কোনও রকম নিজস্ব আচার পালনেই বাধা দেওয়া হতো তাঁদের। সর্বদা যেন সিঁটিয়ে থাকা। পরদেশে এসে যে এমন উৎসবের স্বাদ পাবেন, নিরাপদে পুজো করতো পারবেন, তা কখনও ভাবতে পারেননি তাঁরা।
গত বছর সীমান্ত-যুদ্ধে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বর্মী সেনার উপর হামলা চালায় রোহিঙ্গারা৷ তার পরেই সেনা অভিযান শুরু হয় রাখাইনে৷ শুরু হয় গণধর্ষণ ও গণহত্যা৷ প্রাণ বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেন বাংলাদেশে৷ বিশ্ব জুড়ে সমালোচনা হয় এই সেনা অভিযানের৷ রাষ্ট্রসংঘের তরফেও জানানো হয় প্রতিবাদ৷
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রক্ষা করার চেষ্টা চালানো হবে৷ তবে কূটনৈতিক উপায়ে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাওয়া হবে বলে সূত্রের খবর৷ তবে দেশছাডা় এই ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা এখন ফিরতে চান না মায়ানমারে৷ তাঁরা জানিয়েছেন আতঙ্ক তাড়া করছে, ফিরলেই মেরে ফেলা হবে৷
এসবের মাঝেই উৎসব এসেছে৷ আশ্রয় শিবিরে মা দুর্গাকে বরণ করেছেন রোহিঙ্গারা৷