দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধ্বংসের প্রতিরূপ হয়ে আছড়ে পড়েছে সে। কেড়ে নিয়েছে অন্তত ১২ জনের প্রাণ। তার দাপটে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক জায়গা। কিন্তু ধ্বংসের মধ্যেও প্রাণের স্পন্দন জন্মেছে নতুন করে। জীবন থামে না। সেই জীবনের উদযাপনেই, এই ধ্বংসের আবহেও তাকে আপন করে নিয়েছেন মানুষ। তাই ওড়িশার নতুন বাবা-মায়েরা তাঁদের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের নামের মধ্যে দিয়ে স্মরণীয় রাখছেন ঘূর্ণিঝড় তিতলিকে।
তিন দিন ধরে চলা এই ঝড়ের দাপটে বিধ্বস্ত ওড়িশার তিন জেলা, গঞ্জাম, জগতসিংপুর এবং নয়াগড়। উপকূল এলাকা থেকে প্রায় তিন লক্ষ মানুষকে সরিয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে সরকারি ত্রাণ শিবিরে। এই শিবিরেই জন্মেছে বেশ কয়েকটি সন্তান। তাদের মধ্য়ে অনেকেই মেয়ে। শিবিরের বাইরেও, তিতলি দুর্যোগ চলাকালীনই অনেকেই জন্ম দিয়েছেন কন্যাসন্তানের। তাদের সকলের নামই তিতলি রাখতে চাইছেন বাবা-মা।
বৃহস্পতিবার ভোর ছ'টা পাঁচ ও ছ'টা বারো মিনিটে, ছত্রপুর হাসপাতালে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন পারাদ্বীপের তরুণী আল্লেম্মা। তার কয়েক মিনিট আগেই গোপালপুর সৈকতে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় তিতলি। তাই এখন দুই মেয়ের নামই তিতলি রাখতে চান আলেম্মা। ওই হাসপাতালেই সকাল সাতটা নাগাদ মেয়ের জন্ম দেন প্লুরুগড়ার বাসিন্দা, ২৯ বছরের বিমলা দাস। তিনিও তাঁর মেয়ের নাম রাখতে চান তিতলি। এ কথা জানিয়েছেন ছত্রপুরের সাব ডিভিশনাল স্বাস্থ্য অফিসার কানুচরণ পাত্র।
সূত্রের খবর, বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে ওড়িশার আস্কা অঞ্চলের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ন'টি কন্যাশিশু জন্মায়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক জানান, বাবা-মায়েরা তাদের সকলের নাম রেখেছেন তিতলি। হিঞ্জলি এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বুধবার সন্ধ্যায় চারটি শিশু জন্মেছে। তার মধ্যে একটি কন্যাসন্তান। তার নামও তিতলি রেখেছেন বাবা-মা।
গঞ্জামের মুখ্য স্বাস্থ্য অফিসার জানান, ঝড়ের সময় এবং ঝড়ের আগে-পরে তাঁরা ১০০ জনেরও বেশি অন্তঃসত্ত্বাকে ভর্তি করেছিলেন হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে ৬৪ জন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন নিরাপদে। তাদের মধ্যে যারা শিশুকন্যা, সকলেরই নাম তিতলি রাখবেন বলে জানিয়েছেন মা-বাবারা।
সকলের আশা, ওই শিশুরা ঝড়ের মতোই নির্ভীক হবে পরবর্তী জীবনে।