
শেষ আপডেট: 2 July 2020 18:30
এখন দেখে নেওয়া যাক ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে কী কী অস্ত্র রয়েছে—
স্পাইডার (SPYDER) কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM)সিস্টেম অনেক আগে থেকেই আছে ভারতের হাতে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ২০০৮ সালে চুক্তি হয় ইজরায়েলের সঙ্গে। ২০১২ সাল থেকে এই মিসাইল সিস্টেম ভারতীয় বাহিনীর হাতে আসতে থাকে। ২০১৭ সালে প্রথম এই মিসাইল সিস্টেমের টেস্ট করা হয়। গতবছরও ওড়িশার চাঁদিপুরে স্পাইডার ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয়েছিল।
স্পাইডার হল মাঝারি পাল্লার মোবাইল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম যার নির্মাতা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম ও ইজরায়েল অ্যারোস্পেস ইনডাস্ট্রি। লো-লেভেল কুইক রিঅ্যাকশন মিসাইল সিস্টেম যা ভূমি থেকে আকাশে ছোড়া যায়। যে কোনও এয়ারক্রাফ্ট, হেলিকপ্টার, ড্রোনকে ঘায়েল করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। স্পাইডার লঞ্চার থেকে আবার পাইথন-৫ ও ডার্বি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলও ছোড়া যায়। স্পাইডারের দুটি ভ্যারিয়ান্ট আছে—কম পাল্লার স্পাইডার-এসআর ও মাঝারি পাল্লার স্পাইডার-এমআর। দুই ভ্যারিয়ান্টই কুইক রিঅ্যাকশন সিস্টেম এবং যে কোনও আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে কাজ করতে পারে। যে কোনও লঞ্চার সিস্টেম থেকেই ছোড়া যায় স্পাইডারের এই দুই ভ্যারিয়ান্ট। কাজ করতে পারে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই। একটি ইউনিটে থাকে সেন্ট্রাল কম্যান্ড ও কন্ট্রোল ইউনিট, ৬ মিসাইল ফায়ারিং ইউনিট এবং একটি লঞ্চড ভেহিকল। এতে থাকে শক্তিশালী রাডার সিস্টেম। ৭০-১১০ কিলোমিটার রেঞ্জ অবধি ফাইটার এয়ারক্রাফ্টকে নিশানায় আনতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র, ৪০ কিলোমিটারে হেলিকপ্টার ও ৪০-৬০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে যে কোনও আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকলকে টার্গেট করতে পারে স্পাইডার।
ইজরায়েলি মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MSRAM) রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে। ইজরায়েলি অ্যারোস্পেসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই মিসাইলের প্রযুক্তিতে আধুনিকীকরণ করেছে ডিআরডিও। এই মিসাইল সিস্টেম ও তার ১৬টি ফায়ারিং ইউনিটের জন্য ইজরায়েলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২০০৯ সালে। চলতি বছরেই এই মিসাইল সিস্টেম ভারতের হাতে আসার কথা ছিল। এই মিসাইল সিস্টেমে রয়েছে কম্যান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেম, ট্র্যাকিং রাডার, মিসাইল ও মোবাইল লঞ্চার সিস্টেম। ৪.৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ২৭৬ কিলোগ্রাম ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্র যে কোনও যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, সশস্ত্র ড্রোনকে টার্গেট করতে পারে।
আরও একটি শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্ট সিস্টেম আছে ইজরায়েলের হাতে যার নাম ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling) । ইজরায়েলের রাফায়ের অ্যাডভান্সড সিস্টেম ও আমেরিকার কোম্পানির যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে এই মিসাইল সিস্টেম। ৪০ কিলোমিটার থেকে ৩০০ কিলোমিটার পাল্লায় কাজ করতে পারে। যুদ্ধবিমান, ট্র্যাকটিকাল ব্যালিস্টিক মিসাইল, মাঝারি থেকে দূর পাল্লার রকেটকে নিশানা করতে পারে এই মিসাইল সিস্টেম। এতে রয়েছে ৩টি রাডার, ইলেকট্রো-অপটিকাল ইনফ্রারেড সিকার, মাল্টি-সিকার সেন্সর। ৪-৭০ কিলোমিটার পাল্লার রকেট, অ্যারো মিসাইল ও ব্যালিস্টিক মিসাইলকে একসঙ্গে কাবু করতে পারে এই মিসাইল সিস্টেম।