
শেষ আপডেট: 8 February 2023 10:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose) রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই রাজভবন ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত দূর হয়েছে। বুধবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের (Governor) উদ্বোধনী ভাষণে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের সরকারের বিরোধের পরিচিত চড়া সুর অনেকটাই অনুপস্থিত।
রীতি মেনেই রাজ্যপালের ভাষণ (speech of Governor) জুড়ে রাজ্য সরকারের কাজকর্মের প্রশংসার উল্লেখ আছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প, গ্রামীণ আবাসন ও গ্রামীণ সড়ক যোজনায় ব্যর্থতার কথা রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার খোলাখুলি স্বীকার করেছে। যদিও ব্যর্থতার দায় নবান্ন চাপিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর।
ভাষণের ৪০তম অনুচ্ছেদে রাজ্যপাল বলেছেন, তবে, যে তিনটি ক্ষেত্রে এ বছর আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারিনি, সেগুলি হল—এমজিএনআরইজিএ (১০০ দিনের কাজের প্রকল্প) গ্রামীণ আবাসন এবং গ্রামীণ সড়ক। ২০২১০’২২ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এই ক্ষেত্রগুলিতে প্রথম স্থানে ছিল। কিন্তু এ বছর রাজ্য এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য টাকা পায়নি। ১১,৮০০ কোটি টাকাও বেশি পাওনা এখনও বকেয়া রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কল্যাণসাধনের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজে রাজ্য সরকারকে প্রভূত অসুবিধা ও অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’
রাজ্যপালের ভাষণে রাজ্য সরকার আশা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার কথা মতো দ্রুত টাকা পাঠাবে এবং তাহলে রাজ্য ফের এই তিন প্রকল্পে শীর্ষস্থান অর্জন করবে। প্রসঙ্গত ওই তিন প্রকল্পেই অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
রাজ্যপাল ভাষণের একেবারে শেষ অনুচ্ছেদে এনেছেন কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধের চলতি বিতর্কে বহু আলোচিত বিষয়টি। তিনি বলেছেন, ‘সংবিধানের সযত্নলালিত সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় সুমহান আদর্শকে অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে এই রাজ্য বদ্ধপরিকর।’ লক্ষণীয়, অতীতের মতো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করার দায়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে নিশানা করা হয়নি এবারের রাজ্যপালের ভাষণে।
অতীতে জিএসটি, নোটবন্দীর জেরে আর্থিক ক্ষতি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সম্পর্কেও রাজ্য সরকারের আপত্তির উল্লেখ থাকত রাজ্যপালের ভাষণে। এবার চড়া সুরে কেন্দ্রের বিরোধিতা নেই। রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ভাষণে।
বর্তমান সরকারের সময়ে অতীতে অন্তত দুজন রাজ্যপালের সঙ্গে ভাষণ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরোধ হয়েছে। প্রয়াত কেশরীনাথ ত্রিপাঠি এবং জগদীপ ধনকড়ের সময়ে রাজ্যপালের ভাষণে কেন্দ্রের সমালোচনার উল্লেখ ঘিরে রাজভবনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে একাধিকবার। শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক রীতি মেনে রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণই পাঠ করতে হয়েছে আনন্দ বোসের দুই পূর্বসূরিকে।
রাজ্য সরকারের এক পদস্থ আমলার বক্তব্য, রাজ্যপালের সঙ্গে সংঘাত আসলে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের আসল বিরোধ। সংঘাত না থাকলে কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধেও ভাটা পড়ে। বর্তমান রাজ্যপাল তাঁর পূর্বসূরিদের মতো রাজ্যের এক্তিয়ারে প্রবেশ করেননি। বিরোধীদের মুখপাত্রের মতোও আচরণ করছেন না। সাংবিধানিক রীতি মেনে তিনি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রেখে চলছেন। ফলে রাজ্যপালের ভাষণে কেন্দ্রের সমালোচনার উল্লেখ করে রাজ্যপালকে অস্বস্তিতে ফেলার অর্থ হয় না। কেন্দ্রের সমালোচনা করার অনেক ফোরাম আছে। মঙ্গলবারই ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
‘নওসাদ ভাই জেলে কেন, মুখ্যমন্ত্রী জবাব দাও’, স্লোগান শুভেন্দুদের