সোমবার শুনানির শুরুতে তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। রঘুনাথগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় বহু ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিশন’ হিসেবে রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত
শেষ আপডেট: 13 April 2026 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে পশ্চিমবঙ্গের কয়েক লক্ষ ‘ব্রাত্য’ ভোটারের ভাগ্য নিয়ে বড়সড় পর্যবেক্ষণ দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার এসআইআর (West Bengal SIR) মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলেই ভোটদানের সুযোগ করে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। আদালতের মতে, এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব নয় যাতে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। এই নির্দেশের ফলে কয়েক লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সোমবার শুনানির শুরুতে তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন যে, ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। রঘুনাথগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশিত তালিকায় বহু ভোটারের নাম এখনও বিচারাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিশন’ হিসেবে রয়েছে। তিনি আর্জি জানান, ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে যত দ্রুত সম্ভব এই মামলাগুলির শুনানি শেষ করে তাঁদের ভোটদানের সুযোগ দেওয়া হোক। কল্যাণের কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ সুপ্রিম কোর্টের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সওয়ালের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আবেদন করলেই ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যদি আমরা এর অনুমতি দিই, তবে যাঁদের নাম বর্তমানে ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ৯ এপ্রিল বা তার ঠিক পরেই যদি কোনও আপিলের নিষ্পত্তি হয়, তবেই সেই ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকে - যা আগেই পরিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান দাবি করেন, যাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে, তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
উভয়পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, আদালতকে এই বিষয়ে ভাবার জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের দুই পক্ষের যুক্তিই মাথায় রাখতে হবে।”
উল্লেখ্য, রাজ্যে ৯১ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। আর সোমবারের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর ২৩ তারিখের ভোটের আগে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ আদৌ বুথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেল।