
তসলিমা নাসরিন ও শমীক ভট্টাচার্য।
শেষ আপডেট: 9 May 2025 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে (Taslima Nasrin) কলকাতায় (Kolkata) ফেরাতে আগেই উদ্যোগী হয়েছিল বঙ্গ বিজেপি (BJP)। এ ব্যাপারে সম্প্রতি রাজ্যসভায় সরব হযেছিলেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এবার কেন্দ্র লিখিতভাবে জানিয়ে দিল, তসলিমার গতিবিধিতে কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। অর্থাৎ তিনি ভারতের যেকোনও জায়গায়, এমনকী কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গেও প্রবেশ করতে পারেন।
কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানীতে। সীমান্তে রীতিমতো যুদ্ধের পরিস্থিতি। এমন আবহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যখন পাকিস্তানের প্রতি দুর্বল অবস্থান দেখাচ্ছে তখন তসলিমার প্রতি দিল্লির এই 'ছাড়পত্র' বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তসলিমা নাসরিনের 'দ্বিখণ্ডিত' উপন্যাস (Dwikhandito) নিয়ে যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত। সেটি প্রকাশ পাওয়ার পরই নিজের দেশ বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁকে। সেই সময়ে ছিল শেখ হাসিনা সরকার। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন তিনি। উঠেছিলেন কলকাতায়। কিন্তু এই শহরেও বেশিদিন থাকতে পারেননি তসলিমা। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে লেখিকাকে কলকাতা থেকেও 'নিষিদ্ধ' করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে ভারতে থাকতে পারলেও আর কলকাতায় আসতে পারেননি বাংলাদেশি লেখিকা।
১৮ বছরেরও বেশি হয়ে গেছে, কলকাতায় পা রাখেননি তসলিমা। তাঁকেই এবার কলকাতা তথা রাজ্যে ফেরাতে সম্প্রতি উদ্যোগী হয় গেরুয়া শিবির। রাজ্যসভায় শমীক ভট্টাচার্য এই ইস্যুতে সম্প্রতি বলেছিলেন, তসলিমা নাসরিনের কাছে কলকাতা নিজের শহর, ভালবাসার শহর, প্রাণের শহর। তাই তাঁকে ফেরানো হোক। তাঁর এও বক্তব্য, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁকে কলকাতা থেকে তাড়ানো হয়েছিল। এদিকে যে কংগ্রেস নেতা লেখিকাকে তাড়াতে তৎপর হয়েছিলেন তিনি এখন তৃণমূলে। সেই প্রেক্ষিতে তসলিমাকে কলকাতায় ফেরানোর জোরাল দাবি করেন তিনি।
শমীকের কথা শোনার পর এক সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়ে লেখিকা সে সময় জানিয়েছিলেন, তিনি বিজেপি সাংসদকে ধন্যবাদ জানাতে চান। তাঁকে কেন এত বছর ধরে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে, সেটা তিনি আজ পর্যন্ত বোঝেননি। লেখিকার প্রশ্ন, 'আমি কি কোনও সিরিয়াল কিলার নাকি, যে আমাকে শহরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না?'
তবে এদিন দিল্লির ছাড়পত্র শোনার পর তসলিমা জানান, "বর্তমানে একটা উত্তেজনার পরিবেশ রয়েছে। আমি চাই না, আমার জন্য নতুন করে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হোক।" অর্থাৎ ছাড়পত্র পেলেও এখনই কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে আসবেন না লেখিকা।