
শেষ আপডেট: 31 January 2024 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট একটি মামলার রায়ে বলেছিল, পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানদের তাঁদের স্বামীরা যেভাবে রাবার স্ট্যাম্প হিসাবে ব্যবহার করছে, তা উদ্বেগজনক। মহিলাদের ক্ষমতায়নের আসল উদ্দেশ্য তাতে পরাস্ত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মহিলা গ্রাম প্রধানের স্বামীকে ‘প্রধানপতি’ বলে সম্মোধন করার একটা রেওয়াজ হিন্দিবলয়ে অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে।
এবার বাংলাতেও নতুন বিতর্ক তৈরি হল। কারণ, সদ্য পঞ্চায়েত দফতরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মহিলা গ্রাম প্রধানদের স্বামীকেও এক প্রকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যেমন উত্তর চব্বিশ পরগনায় সব জেলা বিডিওকে নোটিশ দিয়ে বলা হয়েছে, ১ এবং ২ ফেব্রুয়ারি জেলার সব মহিলা প্রধান যেন তাঁদের স্বামীকে নিয়ে বারাসতের প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত থাকেন।
নবান্নে ‘বাংলা চায় তার মেয়েকে’ আর নবান্ন চায় ‘প্রধানপতি’ কে ! It’s now official. Proxy for the women reservation. Shame!@MamataOfficial pic.twitter.com/EHNsepBKyj
— Md Salim (@salimdotcomrade) January 31, 2024
মহিলা গ্রাম প্রধানের স্বামীদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম টুইট করে বলেছেন, “নবান্নে ‘বাংলা চায় তার মেয়েকে’ আর নবান্ন চায় ‘প্রধানপতি'কে।” সিপিএমের বক্তব্য, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে মহিলাদের ক্ষমতায়ণ বা তাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার যে কথা বলা হচ্ছে, তা কতটা ফাঁপা এর থেকেই প্রমাণিত। মহিলা গ্রাম প্রধানের স্বামীরা যাতে পঞ্চায়েত চালাতে পারেন, তার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সরকার।
রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার অবশ্য দ্য ওয়ালকে বলেছেন, “এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সরকারের একটা নির্দেশিকা রয়েছে। রাজ্য সেই শর্ত পালন করছে। মহিলা গ্রাম প্রধানদের ক্ষমতা খর্ব করার প্রশ্ন নেই। কোনওরকম প্রক্সি ব্যবস্থাতেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, মহিলা গ্রাম প্রধানদের বিষয়টা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। সেই কারণে তাঁর স্বামীকে মেন্টর হিসাবে তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু পরিষেবা দেওয়ার কাজ ওই মহিলা প্রধানই করবেন। তাঁর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে। তাতে স্বামী কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।"