
শেষ আপডেট: 4 January 2024 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র তথা কালীঘাটের কাকুর শরীরে বড় কোনও সমস্যা নেই বলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে জানিয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল।
গত চার মাস ধরে পিজির কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ। তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়া নিয়ে রীতিমতো টালবাহানা করছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে ইডির কাছে রিপোর্ট চেয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। ইডি হাইকোর্টে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, এসএসকেএমের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান তাঁদের জানিয়েছেন যে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর শরীরে বড় কোনও সমস্যা (Major Complications)নেই। ডাক্তাররা তাঁর হৃদপিণ্ডে কোনও সিরিয়াস রিদম ডিসঅর্ডার (Ryth Disorder) পাননি। অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের ছন্দ ঠিকই রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা বুধবার রাতেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। কলকাতা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একজন প্রতিনিধিকে নমুনা সংগ্রহের সময়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয় আদালত।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, শরীরে বড় কোনও সমস্যা না থাকলেও কেন এখনও এসএসকেএম হাসপাতালের বেড দখল করে রয়েছেন কালীঘাটের কাকু। পিজি হাসপাতাল হল উৎকর্ষতার দিক থেকে রাজ্যের অন্যতম নামী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষ সহজে পিজিতে চিকিৎসার জন্য বেড পান না। এই অবস্থায় শরীরে গুরুতর সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও সুজয়কৃষ্ণকে পিজিতে রেখে দেওয়া হয়েছে।
এসএসকেএম হাসপাতালে সাধারণ মানুষ জায়গা পাচ্ছেন না। অথচ কালীঘাটের কাকু সেখানে বেড দখল করে রয়েছেন প্রায় ৪ মাস ধরে। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা উঠেছিল।
ওই মামলায় আদালতের নির্দেশ, এসএসকেএম হাসপাতালে কতজন এই ধরনের ভিভিআইপি রয়েছেন, যাঁরা গ্রেফতার হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে কী কী সুযোগ সুবিধা তাঁরা পাচ্ছেন তাও বিস্তারিত জানাতে হবে আদালতকে।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এখনই কোনও মতামত দেবে না। তবে এই অভিযোগ যদি সত্যি হয় তাহলে এটা খুব গুরুতর বিষয়।
আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেন, "সুজয়কৃষ্ণ অত্যন্ত প্রভাবশালী। সেই জন্য সে এসএসকএম হাসপাতালের মত সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এতদিন থাকার সুযোগ পাচ্ছে।"
যা শুনে বিস্মিত প্রধান বিচারপতিকে বলতে শোনা যায়, "এটা তো হতে পারে না। সাধারণ মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাবে না আর প্রভাবশালীরা বেড দখল করে থাকবে।" এরপরই এসএসকেএম হাসপাতালে বেড দখল করে থাকা প্রভাবশালীদের বিস্তারিত তালিকা চেয়ে পাঠান তিনি। আগামী ২৪ জানুয়ারি মামলার শুনানি হবে।