২০০২ ও ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা তুলনায় বড় গড়মিল দেখছেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ও তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ জওহর সরকার।

জহর সরকার
শেষ আপডেট: 19 November 2025 12:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০২-এর ভোটার তালিকার নিরিখে ২০২৫-এর ভোটার তালিকায় বিস্তর গড়মিল আছে। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ নাম ভাল করে দেখা উচিত। দ্য ওয়ালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বললেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জওহর সরকার। যিনি খোদ একটা সময় রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের(CEO) দায়িত্ব পালন করা প্রাক্তন আমলা ছিলেন।
রাজ্যে এখন ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রায় সব ভোটারের কাছেই এনুমারেশন (Enumeration) ফর্ম বিলি করেছে ইলেকশন কমিশন। সোমবার বিকাল ৩টে অবধি রাজ্যে প্রায় ৯৯.৬৪ শতাংশ ভোটারের কাছে এই ফর্ম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এবার পালা ফিলআপ করা ফর্ম সংগ্রহ করা ও ডিজিটাইজ করা।
তারপর একদফা খতিয়ে দেখে ৯ ডিসেম্বর খসরা ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। পরে আরেক দফা ভেরিফিকেশন ইত্যাদি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেই তালিকা থেকে ঠিক কতগুলো নাম বাদ যাবে! অর্থাৎ রাজ্যে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল সেই তালিকা অনুযায়ী রাজ্যের মোট ভোটার ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ জন ভোটারের সবার নামই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে, নাকি অনেক নাম বাদ যাবে!
একদিকে যখন রাজ্যের শাসকদল বলে রেখেছে একটাও নাম বাদ দেওয়া যাবে না, অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এক কোটির বেশি নাম বাদ যাবে। এই আবহে নব্বই দশকের একেবারে শেষের দিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পদ সামলানো প্রাক্তন আমলা জওহর সরকারের মত এই ভোটার তালিকায় জল আছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও মনে করেন, এই ভোটার তালিকায় বহিরাগতরাও রয়েছে।
কেন এমন বলছেন এই প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ? নিজেই হিসেব দিলেন। জওহর সরকারের মতে, ২০০২ সালে রাজ্যে মোট যতজন ভোটার ছিলেন তার সঙ্গে যদি বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হিসেব করা যায় তাহলে ২০০২ সালের প্রায় ৫ কোটি ভোটার থেকে বর্তমানে (২০২৫) রাজ্যের ভোটার হওয়া উচিত ছিল সাড়ে ছয় কোটির আশপাশে।
কিন্তু বর্তমানে মোট যত ভোটার তালিকায় রয়েছে সেটা একেবারেই অসম্ভব বলে জানালেন তিনি। জওহর সরকার বলেন, 'বাম আমলেও যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থেই মৃত ভোটারের নাম কাটে না। তাছাড়া অনেকে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছে, তারাও হয়ত ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত নিজেদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটাননি।' নিজের উদাহরণ দিয়ে প্রাক্তন এই আমলা বলেন, 'আমি যখন দিল্লি (চাকরি সূত্রে দীর্ঘদিন দিল্লিতে ছিলেন) থেকে কলকাতায় চলে এলাম, তখন আমি কিন্তু ওখানকার ভোটার তালিকা থেকে নিজেই নাম কাটিয়ে এসেছি।'
তাঁর সময়ে (২০০২) যখন এই ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ হয়েছিল সেই সময় সবে আধুনিক ভাবনা কাজে লাগিয়ে ডিজিটাইজ করা হচ্ছিল। তবে বর্তমানে ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ যেভাবে হচ্ছে তাতে বিএলও (Booth Level Officer) হোক বা ডিইও (District Electoral Officer), কেউই কোনও গড়মিল করতে পারবে না। ফলে জাল ভোটার, বহিরাগত ভোটার, মৃত ভোটার বা অন্য জায়গায় স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া ভোটারের নাম বাদ যাবেই। সেই হিসাবেই জহরবাবু মনে করছেন এক কোটি না হলেও ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ লোকের নাম বাদ যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।