দ্য ওয়াল ব্যুরো : কলম্বোর অভিজাত মহাওয়েলা অঞ্চল। তার মধ্যে দারুণ সুন্দর সাদা একটি বাড়ি। আশপাশের বাসিন্দারা রীতিমতো সমীহ করতেন সাদা বাড়ির মালিকদের। কারণ তারা ছিল যেমন ধনী তেমনই দানশীল। কিন্তু রাতারাতি পুরো শ্রীলঙ্কায় কুখ্যাত হয়ে উঠেছে বাড়িটি। জানা যাচ্ছে, ওই বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেয় বোমা বিস্ফোরণের মূল চক্রী। এলটিটিই ধ্বংসের পরে এক দশক জুড়ে দেশে যে শান্তি বিরাজ করছিল, তা ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার জন্য দায়ী কোটিপতি দুই ভাই।
বিস্ফোরণের দায়িত্ব স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। তাদের দাবি, নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে বন্দুকবাজের হামলার বদলা নিতেই এই বিস্ফোরণ। পরে জানা যায়, মহাওয়েলা অঞ্চলের ওই সাদা বাড়ির বাসিন্দা ইনসাফ ইব্রাহিম সাংগ্রি লা হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তার বয়স ছিল ৩৩। একটি কারখানার মালিক ছিল সে। সাংগ্রি লা হোটেলে যখন ব্রেকফাস্ট সার্ভ করা হচ্ছিল, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।
পরে পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায়। তার ছোট ভাই ইহাম ইব্রাহিম পুলিশ দেখেই বিস্ফোরণ ঘটায়। তাতে মারা যায় সে নিজে, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান।
মহাওয়েলা গার্ডেনের কাছেই থাকেন ফতিমা ফাজলা নামে এক গৃহবধূ। তিনি বলেন, ওই বাড়ির লোকজনকে তো দেখলে ভালো লোক বলেই মনে হত।
সাদা বাড়িটি পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। বোমারুদের মধ্যে ওই দু’জনেরই নাম জানা গিয়েছে। বাকিদের পরিচয় পুলিশ জানায়নি। দুই ভাইয়ের বাবা মহম্মদ ইব্রাহিমকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ছিলেন মশলার ব্যবসায়ী। কলম্বোর ব্যবসায়ী মহলে তিনি ছিলেন বিশেষ জনপ্রিয়। তাঁর ছ’টি ছেলে ও তিনটি মেয়ে।
ফাজলা বলেছেন, মহম্মদ ইব্রাহিম এলাকার গরিবদের খাদ্য ও অর্থ বিতরণ করতেন। তাঁর ছেলেরা এমন কাণ্ড ঘটাবে ভাবাই যায় না। তারা যা করেছে, সেজন্য এখন দেশের সব মুসলিমকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
৩১ বছর বয়সী ইহাম ইব্রাহিম প্রকাশ্যে উগ্রপন্থী মতাদর্শের কথা বলে বেড়াতেন। ন্যাশনাল তৌহিত জামাতের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। বিস্ফোরণের সঙ্গে তৌহিত নামে সংগঠনটি যুক্ত ছিল বলে জানা যায়। তার দাদা ইনসাফ দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে ছিল আরও উদারপন্থী। নিজেদের কারখানার কর্মীদের দরাজ হাতে দান করত। স্থানীয় গরিবরাও সাহায্য পেত তার থেকে। সে নিজে ধনী পরিবারের ছেলে। তার স্ত্রীও ছিল ধনী হিরে-জহরতের ব্যবসায়ীর কন্যা। ফলে আর্থিক অভাব তার কখনই হয়নি।