
শেষ আপডেট: 19 July 2023 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিতর্কিত নির্দেশিকাকে ঘিরে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে গেল নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (Netaji Subhas Open University)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা নিয়ে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারীরা কেউ সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে পারবেন না—এই মর্মে রেজিস্ট্রারের জারি করা নির্দেশিকাটি বুধবার প্রতাহার করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে অস্থায়ী উপাচার্যের পদও ছেড়ে দিয়েছেন অধ্যাপক চন্দন বসু। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মাস কয়েক আগে তাঁকে অস্থায়ী উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। ফলে ফের উপাচার্যহীন হয়ে পড়ল আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
এর আগে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের (Netaji Subhas Open University) শিক্ষক সমিতির সদস্যরা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করে দাবি করেছিলেন বিতর্কিত নির্দেশিকা যেন প্রত্যাহার করা হয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই রাজ্যের অন্যান্য বহু উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও ওই নির্দেশিকাকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক ফতোয়া’ বলে উল্লেখ করেন। প্রতিবাদ জানান, রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত সংগঠন।
কিন্তু রেজিস্ট্রার উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে জানিয়ে দেন, নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমিতি আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। বুধবার দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে জানাজানি হয় উপাচার্যের পদ থেকে সরে গিয়েছেন অধ্যাপক চন্দন বসু।
জোটের ‘ইন্ডিয়া’ নামে আপত্তি, থানায় অভিযোগ দায়ের দিল্লি, মুম্বইয়ে
নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (Netaji Subhas Open University) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মননকুমার মণ্ডল, সম্পাদক ড. বর্ণনা গুহ ঠাকুরতা এক বিবৃতিতে বলেন, উপাচার্যের সরে যাওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সমিতি আগের আদেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি জানিয়েছে উপাচার্যের সঙ্গে যাওয়ার সঙ্গে শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। শিক্ষক সমিতি কোনও অবস্থাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেনি। আচার্যকে পাঠানো পদত্যাগ পত্রেও তেমন কোনও ইঙ্গিত উপাচার্য দেননি। সমিতি আরও জানিয়েছে, তারা আগের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে আচার্য ও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের সহযোগিতা চেয়েছে।
প্রসঙ্গত, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (Netaji Subhas Open University) কর্তৃপক্ষের বিতর্কিত নির্দেশিকার প্রতিবাদে সরব হয় রাজ্যের অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনগুলিও। পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এক বিবৃতিতে বলে, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের জারি করা নির্দেশিকা স্বৈরতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক এবং সংবিধানে প্রদত্ত বাক স্বাধীনতার পরিপন্থী। অবিলম্বে ওই নির্দেশনামা প্রত্যাহার করতে হবে।
নির্দেশনামায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনও বক্তব্য মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা যাবে না। বহু শিক্ষক এই নির্দেশিকাকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক ফতোয়া’ বলে উল্লেখ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, স্মরণকালের মধ্যে এমন নির্দেশিকা জারির নজির নেই রাজ্যের কোনও শিক্ষাঙ্গনে। কল্যাণী, বর্ধমান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও নির্দেশিকার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
বহুদিন ধরেই ওই বিশ্ববিদ্যালয় একটি ‘নেই রাজ্য’। দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর কিছুদিন আগে নিয়োগ করা হয়েছিল অস্থায়ী উপাচার্য। অস্থায়ী রেজিস্ট্রারও। শূন্য অধ্যাপকদের একাধিক পদ। তা নিয়ে বহুদিন ধরেই সরব বিশ্ব বিদ্যালয়ের সব স্তরের কর্মচারী। নীরব রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতর।
কিন্তু এই অচলাবস্থা, পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে মুখ খোলা যাবে না সংবাদ মাধ্যমে, সমাজমাধ্যমেও, বলা হয় রেজিষ্ট্রারের নির্দেশিকায়। যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে নির্দেশিকা নিয়ে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়। শিক্ষক-অশিক্ষক দু পক্ষই ক্ষুব্ধ রেজিস্ট্রারের নির্দেশনামায়।
তাঁদের বক্তব্য, এই নির্দেশিকা বাক স্বাধীনতার হরণ। শিক্ষক-অশিক্ষক সকলেরই দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ খোলার অধিকার আছে। বিশ্ব বিদ্যালয়ের স্বার্থেই কর্মচারীরা সরব। সমস্যার সমাধান না করে কর্মীদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।