দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংবাদিক পল্লবী গগৈয়ের আনা যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে এম জে আকবর দাবি করলেন দু দশক আগে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এটা ঠিক, তবে তা দুজনের সম্মতিতেই।
আকবর সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, "১৯৯৪ সালের কোনও এক সময় পল্লবীর সঙ্গে আমার একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে আমাদের দুজনেরই সম্মতি ছিল। কয়েক মাস ছিল আমাদের সেই সম্পর্ক। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে লোকে নানা কথা বলতে শুরু করে। আমার পারিবারিক জীবনেও অশান্তি শুরু হয়। এই সম্পর্ক শেষ হয়। তবে ভালো ভাবে তা হয়নি।"
তাঁর দাবি, "যাঁরা আমাদের দুজনের সঙ্গে কাজ করেছেন বা আমাদের দুজনকেই জানতেন, তাঁরা এই ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি আছেন। সেই সময় পল্লবী গগৈকে দেখে কারও আদৌ মনে হয়েছিল কি না যে তিনি কোনও রকম চাপ বা অস্বস্তিতে আছেন, সেটাও তাঁরা বলতে পারেন।"
স্বামীর বিরুদ্ধে নানারকম যৌন হেনস্থার অভিযোগ আসতে শুরু করার পরে এই প্রথম মুখ খুলেছেন আকবরের স্ত্রী মল্লিকা আকবর। তাঁর বক্তব্য, পল্লবীর সম্মতিতেই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন আকবর। ২৩-২৪ বছর আগের সেই ঘটনায় তাঁদের পরিবারে অশান্তির ঝড় উঠেছিল বলেও মন্তব্য করেছেন মল্লিকা। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "অনেক রাত পর্যন্ত পল্লবী আর আমার স্বামী ফোনে কথা বলতেন। তখনই আমি বুঝতে পারি কিছু একটা হচ্ছে। তা ছাড়া, পল্লবী আমার এবং অন্যদের সামনেই আমার স্বামীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা দেখাত।"
মল্লিকা বলেন, "আমার স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে পল্লবী এমন খোলামেলা আচরণ করত যে আমার পরিবারের সকলে তা দেখে খুবই কষ্ট পেতেন। আমাদের মন ভেঙে যায়। একবার আমাদের বাড়িতে এশিয়ান এজ-এর একটি পার্টি হয়। সেখানে সব অল্পবয়সী সাংবাদিকেরা এসেছিলেন। ওই পার্টিতে ওরা দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ হয়ে নাচছিল। লজ্জা, অপমান, অস্বস্তি আর কষ্ট নিয়ে আমি তা দেখি। পরে আমি এই নিয়ে সরাসরি আমার স্বামীকে প্রশ্ন করি। পরে তিনি পরিবারের প্রতি কর্তব্যকেই নিজের অগ্রাধিকার বলে মনে করেন।" মল্লিকা আরও বলেছেন, "তুষিতা প্যাটেল আর পল্লবী গগৈ প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসত, থাকত, একসঙ্গে পান করত, ডিনার খেত। খুবই হাসিখুশি থাকত ওরা। কোনওদিন দেখে মনে হয়নি যে ওর উপর যৌন হেনস্থা করা হয়েছে।"
মল্লিকা বলেন, পল্লবী কেন 'মিথ্যে বলছেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে এটি মিথ্যেই।
আমেরিকার ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও-র বিজ়নেস হেড পল্লবী গগৈয়ের দাবি, ২৩ বছর আগে তাঁকে হিংস্র ভাবে ধর্ষণ করেছিলেন এশিয়ান এজ সংবাদপত্রের প্রাক্তন সম্পাদক ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবর। যদিও আকবর অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, সমস্ত ঘটনাই সর্বৈব মিথ্যে। পরে তিনি পল্লবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পারষ্পরিক সম্মতিতে তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন।
কর্সূমত্রে এখন আমেরিকায় থাকেন পল্লবী। তিনি জানান, সম্প্রতি মিটু ঝড়ে একের পর এক মহিলা সাংবাদিক মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বহু উপরতলার মানুষের নাম সামনে আসছে যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত হিসেবে। এমজে আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন একাধিক সাংবাদিক। সপ্তাহ দুয়েক আগে এরকমই একটি প্রবন্ধ পড়ার সময়ে তাঁর মনে হয়, এই মানুষটা এখনও সংসদের সদস্য। দেশের গণতন্ত্রের জন্য যা জঘন্যতম নিদর্শন হয়ে রয়েছে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। তাঁর এমনটা মনে হওয়ার কারণ, তিনি খুব ভাল ভাবে জানেন আকবরের স্বরূপ।