
শেষ আপডেট: 21 October 2023 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোয় গোলাপী রঙা পদ্মের জোগানে হিমশিম অবস্থা। সময়ের সঙ্গে চাহিদা বাড়লেও নেই তেমন জোগান। তাই তো সপ্তমীতে রাজ্যে এক-একটি পদ্মের দাম উঠল ৫০ টাকা। বাংলা হোক কিংবা ওড়িশা বা বেঙ্গালুরুর পদ্ম, ৫০ টাকার নিচে নামেনি এবারের সপ্তমীর দুর্গাপুজার পদ্মের দাম।
কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজারে এই রাজ্যের এক-একটি পদ্ম ৩০ টাকাতে বিক্রি হয় বটে। তবে সেখান থেকে কলকাতার বিভিন্ন ছোট-ছোট ফুলবাজার, শহরতলি সহ জেলাগুলির বাজারে ওই পদ্মই বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। সেই বাজারগুলি থেকে ছোট ফুল ব্যবসায়ীরা পদ্ম নিয়ে এসে বিক্রি করার সাহস দেখাতে পারছেন না। কারণ পুজো আয়োজকরা ছাড়া এমন চড়া দামের পদ্ম নিত্যপুজোর জন্য গৃহস্থরা খুব একটা কিনছেন না । ফলে সবমিলিয়ে পুজোয় বাংলা জুড়ে এবার চাহিদা অনুযায়ী পদ্মের জোগান তলানিতে। ফলে বেড়েছে দাম। শুধু পদ্ম নয়, এবার নীল অপরাজিতা-সহ অন্যান্য ফুলের দামও বেশ চড়া।
আসলে চলতি বছরে সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় ফলনে ঘাটতি, তার উপর শেষবেলার অতিবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়েছে পদ্মচাষ। সব মিলিয়ে এ বার পুজোয় মহার্ঘ হয়ে উঠেছে পদ্ম। তার উপর, যে হারে পুজোর সংখ্যা বেড়েছে, সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পদ্মফুল জোগান দেওয়া কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। তাই বাইরে থেকে পদ্ম আনার উপর ভরসা রাখতে হয়েছে।
দুর্গাপুজোয় ১০৮টি পদ্মফুল দেওয়াই রেওয়াজ। কথিত আছে, রাবণ বধের আগে মা দূর্গার পুজোয় রামচন্দ্র ১০৮টি পদ্ম অর্পণ করে দেবীকে তুষ্ট করেছিলেন। এই কারণেই দুর্গাপুজোর সময় পদ্মের চাহিদা আকাশ ছুঁয়ে ফেলে।
সপ্তমীর সকালে যেসব জেলায় বেশি পদ্ম চাষ হয় সেখান থেকে প্যাকেট করে পদ্ম যাচ্ছে কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজারের উদ্দেশ্যে। আসলে এবার সন্ধিপুজো একেবারে বিকালের দিকে। আর এই সন্ধি পুজোতেই ১০৮টি পদ্মের প্রয়োজন। ফলে কাল মহাষ্টমীর সকালেও যে পদ্ম বিক্রি হবে তা বোঝাই যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে অষ্টমীতে দাম আরও বাড়বে তা স্বীকার করে নিয়েছেন ফুল চাষি থেকে ব্যবসায়ী সকলেই।
শুক্রবার ষষ্ঠী থেকে ট্রেনে বেঙ্গালুরু, ওড়িশার পদ্ম কলকাতায় আসে। কিন্তু বেঙ্গালুরুর পদ্ম মাঝারি সাইজের হলেও গুণগত মান ভালো না হওয়ায় দ্রুত শুকিয়ে যায়। ওড়িশার পদ্ম সাদা রঙের, তাছাড়া আকৃতিতেও ছোট। আর বঙ্গের পদ্ম গুণগত দিক থেকে যেমন উৎকৃষ্ট তেমনই তার গোলাপি রঙা সৌন্দর্য। তবে আপাতত হাতের কাছে যে পদ্ম মিলছে সেটাই সংগ্রহ করে দুর্গাপুজোয় নিবেদন করতে চাইছেন পুজো উদ্যোক্তারা।