.jpeg)
ফিরহাদ হাকিম, অশোক লাহিড়ী ও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী
শেষ আপডেট: 10 March 2025 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮৩৬ অর্থাৎ দেশ স্বাধীন হওয়ার ১১১ বছর আগে কলকাতার বুকে তৈরি হয়েছিল জাতীয় গ্রন্থাগার (National Library )! সোমবার বিধানসভার আলোচনা পর্বে উঠে এল এই সুপ্রাচীন, ঐতিহ্যশালী গ্রন্থাগারের প্রসঙ্গ। যাকে ঘিরে ফের বিধানসভার অভ্যন্তরে তরজায় জড়ালেন শাসক-বিরোধী বিধায়করা।
এদিন বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে আলিপুরের জাতীয় গ্রন্থাগারের ভগ্নদশা নিয়ে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী।
এই গ্রন্থাগারের বিষয়ে রাজ্য কী করছে জানতে চান তিনি। জবাবে গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানান, 'জাতীয় গ্রন্থাগার কেন্দ্রের অধীনস্ত। সেখানে রাজ্যের কিছু করার নেই'। সেই সঙ্গে তিনি এও জানান যে জাতীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করার কথা বলা হলেও তাঁরা কেউ আসেননি। বরং রাজ্যের ভুমিকাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
এরপরই বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী বলেন, "এখন আপনারা কিছু করছেন না। এরপর যদি জাতীয় গ্রন্থাগার এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সরব হবেন আর বলবেন কেন্দ্র চক্রান্ত করে জাতীয় গ্রন্থাগার সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।"
জবাবে সিদ্দিকুল্লাহ অশোকবাবুকে বলেন, "আমি আপনাকেই দায়িত্ব দিচ্ছি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে জাতীয় গ্রন্থাগার সংস্কারের ব্যবস্থা করুন"।
এ সময় জাতীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষর ভূমিকা নিয়ে আমরা-ওরার রাজনীতির অভিযোগ আনেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। অশোক লাহিড়ীর উদ্দেশে বলেন, "আগে জাতীয় গ্রন্থাগার এ কোনও অনুষ্ঠান হলে আমন্ত্রণ জানাত। কিন্তু ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় বসার পর থেকে আর স্থানীয় বিধায়ক বা সাংসদ কাউকেই ডাকা হয় না। এমনকি অনুষ্ঠানের সময় সিআইএসএফ দিয়ে বাড়তি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। যা দেখলে জাতীয় গ্রন্থাগার নয়, মনে হবে যেন কোনও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল।"
সত্যি কি কলকাতা থেকে জাতীয় গ্রন্থাগার সরানো হতে পারে? পরে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অশোকবাবু বলেন, "তেমন কোনও সম্ভাবনা আছে বলে আমার জানা নেই। তবে দুঃখ পেলাম যে রাজ্যের অন্যতম ঐতিহ্যশালী এই গ্রন্থাগার নিয়ে রাজ্যের কাছে কোনও খবর নেই। তাঁরা এ ব্যাপারে খোঁজখবরও নেন না।" পাল্টা ফিরহাদ বলেন, "কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রানাধীন বিষয়। সেখানে রাজ্য কীভাবে নাক গলাবে?"