
শেষ আপডেট: 2 February 2020 05:36
সময়ের সঙ্গে ধুলো জমতে থাকে ইতিহাসের উপরে। যাঁরা মূর্তিগুলো বানাতেন তাঁদের উত্তরপুরুষরা ভুলে গেলেন তার মাহাত্ম্য। নির্জন দ্বীপে একে অপরকে সঙ্গী করে পড়ে রইল মূর্তিগুলো। একটা-দুটো নয়, এক হাজারের উপরে এমন মূর্তি টানতে শুরু করল পর্যটকদের। গবেষকরাও খুঁজতে শুরু করলেন এর অর্থ। মূর্তিগুলোকে খুঁটিয়ে দেখে, রাপা নুইদের সম্বন্ধে জেনে প্রথমে তাঁরা মনে করেছিলেন যে এগুলি হল তাদের শৌর্যের প্রতীক। নিজেদের এই ব্যাখ্যায় তাঁরা নিজেরাও যে খুব সন্তুষ্ট হয়েছিলেন তা নয়। অতি সম্প্রতি নতুন এক ব্যাখ্যার কথা প্রকাশ করেছে দ্য জার্নাল অফ আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স।
তাদের ব্যাখ্যা হল, রাপা নুই জনজাতির শাসকদের নির্দেশেই মূর্তিগুলি তৈরি করা হয়েছিল কারণ তারা মনে করত এই মূর্তিগুলিই কৃষিজ উৎপাদন বাড়াবে এবং খাদ্যের সরবরাহও বাড়াবে।
এই জায়গায় তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করে চলেছেন জো অ্যান ফন তিলবার্গ। তিনি গত পাঁচ বছরে উৎখনন করে দ্বীপের পূর্ব দিকে রানো রারাকু অঞ্চলে দু’টি মূর্তি আবিষ্কার করেছেন সহকর্মীদের নিয়ে। তিনি বলেন, “উৎখননের ফলে মোয়াই সম্পর্কে আমাদের ধারনা আনেক বেশি প্রসারিত হয়েছে এবং আমরা মনে করছি যে এগুলি ঠিক কী ছিল সে সম্বন্ধে বোঝা না গেলেও আমাদের কিছু যায় আসে না। আমার মনে হয় যে নতুন এই আবিষ্কারের ফলে মোয়াইদের মূর্তিগুলিকে অতিমানবের বদলে অনেক বেশি করে মানুষ বলে মনে হবে।”
গবেষণা প্রমাণ করেছে, রানো রারাকু নামে যে স্থান থেকে তারা শেষ দুটি মূর্তি উৎখনন করে পেয়েছেন সেই জায়গাটি ছিল মূলত কৃষিপ্রধান এলাকা। ফন তিলবার্গ ও তাঁর সহকর্মীরা মনে করছেন যে এই মূর্তি দু’টি ১৫১০ থেকে ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তৈরি। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দের পরে আর এই মূর্তি বানানো হয়নি।
তিনি জানিয়েছেন যে দীর্ঘ দিন ধরে গভীর ভাবে গবেষণা করে তাঁরা দেখেছেন, মূর্তিগুলি কৃষির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চান? কলকাতার ইকো পার্কে এই ধরনের মূর্তির রেপ্লিকা রাখা আছে। এখনও শীত রয়েছে, দেখে নিতে পারেন।