দ্য ওয়াল ব্যুরো: হৃদয়ের সমস্ত আবেগটুকু মিশিয়ে প্রথম চিঠি লিখেছিলেন ভাল লাগার মানুষটিকে। সে চিঠি পড়েই ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল সে, রক্তাক্ত হৃদয়ে আপনি কুড়িয়ে নিয়েছিলেন সেটি। তার পর ধরুন, প্রথম ব্রেক আপের পর, এক দিন বাড়িতে এসে পৌঁছল পার্সেল। খুলে দেখলেন, আপনার দেওয়া সমস্ত উপহার, চিঠি ফেরত এসেছে সদ্য প্রাক্তনের ঠিকানা থেকে। আর এই যে সে দিন, ঘর গোছাতে গিয়ে খুঁজে পেলেন সেই পুরনো ডায়রি! যার পাতায় পাতায় লেখা প্রেমের মুহূর্তরা আজ শুধুই বেদনার্ত স্মৃতি!
কী ভাবছেন, এমন ঘটনা বড় কম ঘটেনি আপনার জীবনে, তাই তো? আপনার সংগ্রহেও এমন সব চিঠি, ডায়েরি, উপহারের বোঝা কম নেই। হ্যাঁ, একটা সময়ের পর এ সব তো এক রকম বোঝাই! এ বোঝাদের না যায় প্রাণে ধরে ফেলা, আবার না যায় সাজিয়েগুছিয়ে রাখা। এমন বিড়ম্বনায় আমরা কম-বেশি সকলেই পড়ে থাকি।
কিন্তু আপনি কি জানতেন, আপনার এই সমস্ত জিনিসগুলো আর মোটেও ফেলনা নয়, নয় লুকিয়েচুরিয়ে রাখার জিনিসও। বরং তারা এবার থেকে বহাল তবিয়তে রাখা থাকতে পারে জাদুঘরে! আপনারই ভেঙেচুরে যাওয়া স্মৃতিদের দেখতে রীতিমতো টিকিট কেটে ভিড় জমাবেন দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা!
শুনতে খুব অদ্ভুত লাগলেও, এটাই সত্যি। সম্প্রতি এমন এক জাদুঘরর উদ্বোধন করা হয়েছে যেখানে শুধুই হৃদয় ভাঙার কাহিনিরা জাগা পেয়েছে। তবে সেগুলো নিছক কোনো কাহিনি নয়, সবই সত্য ঘটনা।
মঙ্গোলিয়ার হোহট শহরে গত সপ্তাহে একটি জাদুঘর খুলেছে। সারা পৃথিবীর মানুষের প্রেম বা অন্য কোনও প্রিয় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সত্য ঘটনার নিদর্শন স্বরূপ বিভিন্ন চিঠি, ডায়েরি এবং প্রিয়জনের দেওয়া উপহার সংগ্রহ করে রাথা হয়েছে এই জাদুঘরে।
বেশির ভাগ মানুষই ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজের জীবনের হৃদয়বিদারক ঘটনা লেখা ডায়েরি, খেলনা, শোপিস কিংবা অপ্রত্যাশিত উপহার এই মিউজিয়ামে দান করেছেন, যা তাঁরা প্রিয়জনদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। যত্ন-সহকারে রাখা প্রতিটি নিদর্শনের ওপরেই একটি করে ভাঙা হৃদয়ের রূপক টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।
এই জাদুঘরে কোনও সাফল্য বা আনন্দের ছাপ নেই। ছাপ নেই কোনও সুখের। বরং, যাঁরা নিজেদের হৃদয় ভাঙার গল্প অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান, তাঁদের জন্যই এই জাদুঘর।