
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2025 00:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার তখন রাত সাড়ে ৯টা। আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার (Patharpratima Blast) ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকা। তীব্রতা এমনই ছিল যে ৫ কিলোমিটার দূর থেকে নাকি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আগুনের গ্রাসে যে বাড়ি সেটি পুড়ে ছাই তো বটেই এখনও অবধি চার শিশু-সহ মোট সাত জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ১১ সদস্যের বাকি চার জনের এখনও কোনও খোঁজ নেই।
স্থানীয়রা যখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন, তখনই আবার কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, দমকল। শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। আলোচনায় এখন যে বিষয়টা উঠে আসছে সেটা হল বাড়িতে বেআইনি বাজি মজুত করে রাখা। যার জেরে সিলিন্ডার ফেটে এত বড় ঘটনা।
এমন ঘটনা একটা, দুটো নয়-- এগরা, দত্তপুকুর, বজবজ, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী, তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। এবার সেই তালিকাতেই নাম জুড়ল পাথরপ্রতিমার (Patharpratima Cracker Factory)।
২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাত। কল্যাণীর রথতলায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল এতটাই যে গোটা বাজি কারখানাটাই উড়ে যায়। সেখানে চারজনের মৃত্য়ু হয়। সেই ঘটনার ঠিক আগেই উলুবেড়িয়াতেই বাজি ফাটাতে গিয়ে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডে তিন শিশুর মৃত্যু হয়। তার পরপরই বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে গোটা রাজ্যে হইচই পড়ে।
তার আগেই ২০২৩ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছিল গোটা বাড়ি। বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে বাজি কারখানা চলত বলে অভিযোগ করেছিলেন স্থানীয়রা। খাদিকুল গ্রামে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ১২ জনের। সেই ঘটনার পরেও উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখেন, রাস্তার ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে দগ্ধ দেহ। গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আহতদের।
২০২৩ সালে দত্তপুকুরের মোচপোল গ্রামে একটি দোতলা বাড়ির ভিতরে থাকা বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ঠিক কত জন শ্রমিক সেইসময় সেখানে কাজ করছিলেন সে সম্পর্কে কোনও তথ্য সরকারের কাছে ছিল না। তবে ঘটনায় ৯ জনের মৃত্য়ু হয়। আহত হয়েছিলেন প্রায় ১২ জন। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল বাড়ির মালিক ও বাজি কারখানার মালিকের ছেলেরও।
এর আগে ওই বছরের ২০ মার্চ মহেশতলায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ৩ জনের। ২০২২-এর ১১ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ২ জনের। ৩ ডিসেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে। ৩ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছরেরই পয়লা ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩ জনের মৃত্যু হয়।
প্রতিবারই বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় হইচই পড়ে। নিয়মকানুন নিয়ে চর্চা হয়। নতুন করে নিয়ম লাগু হয়। সরকারি ক্ষতিপূরণ তো আছেই... কিন্তু সব কিছুর মধ্যে কোনও ভাবেই যেন থাকতে পারে না বেআইনি বাজি কারখানা, বাজি নির্মাণ ও মজুতের রমরমা। আরও একবার প্রমাণ করল পাথরপ্রতিমা (Patharpratima News)।