দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামা কাণ্ডের পর বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার পাল্টা জবাবের পর পাক সেনার তরফে আগ্রাসন চরম সীমায় পৌঁছেছে। গত কয়েকদিন ধরে নিয়ন্ত্রণরেখায় লাগাতার গোলাবর্ষণ করে চলেছে পাকিস্তান। এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ৬০ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনারা। পাকিস্তানের তোপের মুখে তাই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে। রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় অতিরিক্ত ৪০০ বাঙ্কার মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।
শনিবার জম্মু-কাশ্মীর সরকারের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানান হয়েছে, কাঁটাতারের ও পার থেকে প্রবল গুলিবর্ষণ করে চলেছে পাক সেনারা। যার জেরে সেনা জওয়ান-সহ প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ গ্রামবাসীদেরও। নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়াতে দুই জেলা মিলিয়ে অতিরিক্ত ৪০০ বাঙ্কার মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি জেলায় ২০০টি করে বাঙ্কার থাকবে।
দ্রুত বাঙ্কার তৈরির কাজ শেষ করার জন্য গ্রামোন্নয়ন দফতরের ডেপুটি কমিশনারের কাছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অর্থ ও সমস্ত সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। আগামী একমাসের মধ্যেই বাঙ্কার তৈরির কাজ শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলাকালীনই নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাবর্ষণ শুরু করেছিল পাক সেনারা। শুক্রবারই উপত্যকার কৃষ্ণাঘাটিতে পাক গোলায় ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে একটি বাড়ি। ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ২৪ বছরের এক গৃহবধূ ও তার দুই নাবালক সন্তানের। সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু গুলি নয়, বেছে বেছে ভারতের গ্রামগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে মর্টার ও হাউইতজার ১০৫ মিমি গোলাও। পুঞ্চের মানকোটে পাক ও ভারতীয় সেনাদের গুলির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে গুরুতর জখম হন এক মহিলা। গত বৃহস্পতিবার পুঞ্চে পাকিস্তানের গোলায় নিহত হন ২৭ বছরের আমিনা আখতার। জাকির হুসেন নামে এক সৈনিকও মারা যান। মানকোট, সালোত্রি ছাড়াও পাক হামলা চলছে কৃষ্ণাঘাটি লক্ষ করে।
পাকিস্তানের গোলাবর্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবারই সীমান্তের স্কুলগুলি বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে সমস্ত স্কুল বন্ধ করা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের বাড়ির বাইরে বার হতে নিষেধ করা হয়েছে। ২০০৩ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু পাকিস্তান তার পরে প্রায়ই চুক্তি ভেঙে গোলাবর্ষণ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০১৮ সালেই তিন হাজারের বেশি বার ভারতের গ্রাম ও সেনাঘাঁটিকে নিশানা বানিয়ে গোলাগুলি চালিয়েছে পাক সেনা।