
শেষ আপডেট: 5 April 2024 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ব্রাত্য বসুকে অপসারণের জন্য বৃহস্পতিবার রাজ্যকে চিঠি লিখেছিলেন রাজ্যপাল। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দুর্নীতি, হিংসার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস।
রাজভবনের এমন নির্দেশকে ঘিরে শোরগোল তৈরি হয়েছে শিক্ষামহলে। রাজ্যের অভিযোগ, রাজ্যপাল নিজের সীমা লঙ্ঘন করছেন। রাজ্যপালের এই নির্দেশ নিয়ে সোশ্যাল মাধ্যমে তীব্র কটাক্ষ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও।
টুইটে ব্রাত্য লিখেছেন, "রাজ্যপাল রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দুর্নীতি, হিংসার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু যতদূর জানি, টুইটার, ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মাধ্যমে তো সরকার চলে না, তদন্তের নির্দেশ সরকারিভাবে জানাতে হয়। আরও একটি মজার বিষয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল এবং আচার্য। প্রশ্ন হল, উপাচার্য এবং রাজ্যপাল কি একই ক্ষমতার অধিকারী?"
বস্তুত, সরকারি দফতরে চিটি পাঠানোর আগেই এ ব্যাপারে সোশ্যাল মাধ্যমে টুইট করেন বোস। অনেকের মতে, বোসের এই 'সোশ্যাল প্রেম' নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাত্য। শিক্ষামন্ত্রীর টুইট থেকে এটাও জানা যাচ্ছে যে এ ব্যাপারে রাজভবনের কোনও নির্দেশ শিক্ষা দফতরে এসে পৌঁছয়নি।
— Bratya Basu (@basu_bratya) April 5, 2024
সূত্রের খবর, রাজ্যপালের অপসারণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আবেদন জানাতে চলেছে তৃণমূলপন্থী অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপা। নেতৃত্বর অভিযোগ, রাজ্যের সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইছেন রাজ্যপাল।
ঘটনার সূত্রপাত, গত ৩০ মার্চ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল পন্থী অধ্যাপক সংগঠনের বৈঠক ছিল। সেখানে ব্রাত্যর পাশাপাশি তৃণমূলের লোকসভার দু'জন প্রার্থীও বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
রাজ্যপালের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ব্রাত্য নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে রাজ্যপাল জানতে পারেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য রজতকিশোর দে-র অনুমতি নিয়েই এই সভা করেছিল ব্রাত্য।
এরপরই মঙ্গলবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য পদ থেকে রজতকিশোর দে-কে সরিয়েছিল রাজভবন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের তাঁকে ওই পদে পুনর্বহাল করেছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর।
এরপরই বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারনের জন্য রাজ্যকে চিঠি লিখেছিলেন বোস। এবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দুর্নীতি, হিংসার অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস।