দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুরতে নয়, অফিসের কাজে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অফিসের কাজে এমন একটা জায়গায় যাবেন ভেবেই বেশ আনন্দে ছিলেন। সেই আনন্দই প্রকাশ পেয়েছিল তাঁর ফেসবুক পোস্টে। পেশায় টেকনিশিয়ান, ব্রিটেনের বাসিন্দা ডায়েটার কোয়ালস্কি তখনও জানতেন না, অফিসের কাজে সুন্দর দেশে যেতে পারা নিয়ে তাঁর এই উত্তেজনা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে সে দেশে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই।
দেশটার নাম শ্রীলঙ্কা। ডায়েটার সেখানে পৌঁছেছিলেন রবিবার। ইস্টার সানডে-তে শ্রীলঙ্কায় যে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কয়েকশো মানুষ নিহত হয়েছেন, ডায়েটার তাঁদেরই এক জন।
ডায়েটার 'ব্রিটিশ এডুকেশনাল অ্যান্ড পাবলিশিং কোম্পানি পিয়ারসন'-এর এক জন টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। নিজের কাজে খুবই দক্ষ ডায়েটারকে শ্রীলঙ্কা পাঠিয়েছিল তাঁর সংস্থাই। শুক্রবার উড়ে যাওয়ার আগে ডেনভার থেকে ডায়েটার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন উত্তেজনায় ফুটতে ফুটতে। তাতে তিনি লিখেছিলেন, "আনন্দের সময়ের শুরু। কাজের জন্য এই ট্রিপগুলো খুবই আনন্দদায়ক। ২৪ ঘণ্টা উড়তে হবে। খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে শ্রীলঙ্কা।"
দেখুন সেই ফেসবুক পোস্ট।
কিন্তু শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে ভাল করে বিশ্রামও নেওয়া হয়নি তাঁর। যে হোটেলে তিনি ওঠেন, সেই হোটেলেই বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক পরের দিন। নিহত হন ডায়েটার।
ডায়েটারের কোম্পানির সিইও জন ফ্যালন সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, ডায়েটার সবে কলম্বোর একটি হোটেলে পা রেখেছিলেন। আর তার পরে সেই হোটেলেই বিস্ফোরণ হয়। এক সপ্তাহেরও কিছু বেশি সময় কলম্বোতে কাটানোর কথা ছিল ডায়েটারের। স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে টেকনিক্যাল কিছু বিষয়ে কাজ করারও কথা ছিল তাঁর। সেই কাজের ফাঁকেই শ্রীলঙ্কা ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
কিন্তু কোনও কিছু দেখার আগেই যে এভাবে চলে যেতে হবে, তা ভাবতেও পারেননি ডায়েটার।
"এক জন ভাল মানুষ ও দক্ষ কর্মীকে চলে যেতে হল। আমরা ক্ষুব্ধ, মর্মাহত।"-- বলেছেন জন ফ্যালন।