দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝে বিরতি দু’বছরের। ফের চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়তে চলেছে সূর্য। ২০১৭ সালের পর চলতি বছর ২ জুলাই সূর্যের পূর্ণগ্রাসে ঢাকতে চলেছে আকাশ। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ৪ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড স্থায়ী হবে এই পূর্ণগ্রাস। যদিও ভারতের আকাশ থেকে দেখা যাবে না এই মহাজাগতিক দৃশ্য, তবুও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘিরে ক্রমশই বাড়ছে উত্তেজনার পারদ।
নাসা সূত্রে খবর, আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হবে ভারতীয় সময় রাত ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ। দেখা যাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলি থেকে। পূর্ণগ্রাসের সময় ভারতীয় সময় অনুসারে রাত পৌনে ১২টা থেকে। সুতরাং ভারতের আকাশ থেকে এই পূর্ণগ্রাস দেখা অসম্ভব। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলিতে সেই সময় সকাল ১০টা ২৪ মিনিট। তাই এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে সেখান থেকেই। আর্জেন্টিনার স্যান জুয়ানে এই দৃশ্য দেখা যাবে ৩৬ সেকেন্ডের জন্য। চিলিতে ৫৩ সেকেন্ডের জন্য দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস।
নাসা জানিয়েছে, এ বারের সূর্যগ্রহণ বিরলতম। কারণ চাঁদের ছায়ায় এ বার পুরোপুরিই মুখ ঢাকবে সূর্য। ২০১৭ সালে এমনই পূর্ণগ্রাসের সাক্ষী থেকেছিল আমেরিকার পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলের সুবিস্তীর্ণ এলাকা। চাঁদের ছায়ায় গ্রহণের আলো-আঁধারি প্রথম দৃশ্যমান হল আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের ওরেগনে। আমেরিকার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার পর থেকে ওরেগনে শুরু হয় সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। তারপর ধীরে ধীরে তেরছা ভাবে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। আমেরিকায় শেষ বার সূর্যের পূর্ণগ্রাস দেখা গিয়েছিল ১৯১৮ সালে।
গ্রহণের যাবতীয় কলকাঠিই নাড়ে হল চাঁদ। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় বছরে দু’বার সূর্যের সামনে দিয়ে যেতেই হয় চাঁদকে। সেই সময় চাঁদ, সূর্য আর পৃথিবী একেবারে আক্ষরিক অর্থে সরল রেখায় দাঁড়িয়ে গেলে হয় পূর্ণগ্রাস বা বলয় গ্রাস সূর্যগ্রহণ। আর তা ঠিক সরল রেখা না হলে হয় সূর্যের খণ্ডগ্রাস। ২০১২ সালে আমেরিকায় দেখা গিয়েছিল ‘রিং অফ ফায়ার’। পূর্ণগ্রাস বা খণ্ডগ্রাস নয়, ‘রিং অফ ফায়ার’ তখনই হয়, যখন পৃথিবী আর সূর্যের মাঝে থাকা চাঁদ এতটাই দূরে থাকে যে তা পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে না সূর্যকে। ফলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয় না। তখন চাকতির কিনার থেকে উঁকি মারতে দেখা যায় সূর্যের আলোকে।