
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 September 2024 09:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন করে আরও অশান্তি বেড়েছে মণিপুরে। তার জেরে রাজ্যে ৫ দিনের জন্য ইন্টারনেট নিষিদ্ধ হয়েছে। আপাতত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। পরিস্থিতি কত তাড়াতাড়ি শান্ত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ভিনরাজ্যের এই পরিস্থিতি ঘুম উড়িয়েছে বাংলাদের ঢাকিদের। কারণ দুর্গাপুজোর আগে বরাত পাচ্ছেন না তাঁরা।
মণিপুরের ইম্ফল, কোহিমা, ডিমাপুরের মতো একাধিক এলাকা থেকে উত্তরবঙ্গের ঢাকিদের বরাত আসে। প্রতিবছরই দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজানোর জন্য সে সব অঞ্চলে যান আলিপুরদুয়ারের ঢাকিরা। কিন্তু এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে এখনও বরাত আসেনি তাঁদের কাছে। আদৌ আসবে কিনা, সেটাও কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। শেষমেশ বরাত না এলে ঢাকিদের কী হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দুশ্চিন্তায় পড়েছে তাঁদের পরিবার।
উত্তর-পূর্বের রাজ্যের মূলত ওইসব এলাকা থেকে মোটা টাকার বরাত আসে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বনচুকামারি গ্রাম পঞ্চায়েতে পাটকাপাড়া গ্রামে। প্রখ্যাত ঢোলবাদক বলরাম হাজরার হাত ধরে এখানেই গড়ে উঠেছে ঢাকি মহল্লা। বর্তমানে সেখানে বাস করে অন্তত ৩৫টি ঢাকি পরিবার। পুজোর সময় বাদ দিয়ে তাঁরা কেউ টোটো চালান, কেউ দিনমজুরের কাজ করেন। এলাকায় দারিদ্রের ছাপ স্পষ্ট। তবে দুর্গাপুজো এলে তাঁরা উচ্ছ্বসিত হন। শুধু পুজোর জন্য নয়, মোটা অঙ্কের বরাতের জন্য। কিন্তু এবার তা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন ঢাকিরা।
শুধু মণিপুর নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকেও পুজোর সময় কাজ আসে তাঁদের কাছে। ঢাক প্রতি সকলে যে টাকা উপার্জন হয় তাতে বেশ কয়েক মাস ভালভাবেই চলে যায় তাঁদের। তবে মণিপুরের ক্রমাগত অশান্তিকর পরিবেশ এই বছরের হিসেব যেন ঘেঁটে দিয়েছে। ঢাকিরা মেনেই নিয়েছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবার হয়তো আর কেউ বরাত দিতে আসবেন না। সংসার কী ভাবে চলবে সেই উত্তর খুঁজছেন তাঁরা।