
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 31 March 2024 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গার্ডেনরিচের ছায়া এবার উত্তর দমদম পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎচন্দ্র কলোনিতে। শনিবার সন্ধেয় বিরাটিতে নির্মীয়মাণ বহুতলের চাঙড় মাথায় পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। ঘটনায় বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে সরব হয়েছেন এলাকার একাংশ বাসিন্দা। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে বহুতল?
গত ১৭ মার্চ মধ্যরাতে গার্ডেনরিচে ভেঙে পড়েছিল নির্মীয়মাণ বহুতল। এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। পুরসভাও জানিয়েছে, বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একাংশ বাসিন্দার অভিযোগ, কলকাতার মতো জেলাতেও রমরমিয়ে চলছে বেআইনি নির্মাণ। উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে শনিবার সন্ধেয় বহুতলের চাঙড় খসে জখম কেয়া শর্মাকে তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
মৃত মহিলার স্বামী স্থানীয় পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, "৮ ফুটের রাস্তায় কীভাবে চারতলা বহুতল নির্মাণ হয়? পাশেই স্থানীয় কাউন্সিলরের অফিস। তাঁর অনুমতি ছাড়া নিশ্চয়ই প্রোমোটার এই কাজ করার সাহস পাবেন না।"
স্থানীয় কাউন্সিলর মহুয়া শীলের অবশ্য দাবি, ‘‘বহুতল ভেঙে পড়েনি। নির্মীয়মান বিল্ডিং থেকে ইট খসে মাথায় পড়ে মহিলার মৃত্যু হয়েছে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মীয়মাণ বহুতলের নীচে দাঁড়িয়ে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন ওই মহিলা। আচমকাই ওই বহুতলের এক টুকরো চাঙড় খসে পড়ে তাঁর মাথায়। বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে যেভাবে প্লাস্টিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়, এক্ষেত্রে সেটিও ছিল না। তা না হলে মৃত্যু ঠেকানো যেত বলেও মনে করা হচ্ছে।
নির্মায়মাণ বাড়িতে কর্মরত ১৮ জন শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। ডেকে পাঠানো হয়েছে ঠিকাদারকেও। তবে বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এভাবে আর কত প্রাণ ঝরলে তবে পুরোপুরিভাবে বন্ধ হবে বেআইনি নির্মাণ? পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।