দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমান্তে একটি তাঁবু সরানো ঘেঁষে প্রথম শুরু হয় ভারত-চিন সংঘর্ষ। প্রাণ চলে গিয়েছে বেশ কয়েক জন সেনার। কূটনৈতিক দ্বন্দ্বও চরমে পৌঁছয়। শেষমেশ জানা যায়, দু'তরফেই সিদ্ধানিত হয়েছে যুদ্ধবিরতির। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, তেমনটা মোটেও হল না। গালওয়ানের সেই বিতর্কিত জায়গাতেই আবারও তাঁবু স্থাপন করেছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি ট্রুপ।
সেনা সূত্রের খবর, ঠিক যে এলাকায় তাঁবু বসানো নিয়ে এবং সরাতে বলা নিয়ে ১৫ জুন সংঘর্ষ শুরু হয় দু'দেশের বাহিনীর, সেখানেই আবারও তাঁবু গেড়েছে চিন। এটা চিনের তরফে মারাত্মক বিশ্বাসঘাতকতা বলেই মনে করছেন সকলে। কারণ শেষ বৈঠকেই ঠিক হয়েছে চিন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ ডি-এসক্যালেশনে পুরোপুরি সহযোগিতা করবে। তেমনটা ঘটল না বাস্তবে।
২৪ ঘণ্টা আগেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই এলাকা থেকে সেনা সরাবে ভারত ও চিন দু’পক্ষই। কিন্তু সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে গালওয়ান উপত্যকা বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার দু’দিকেই সেনা বাড়াচ্ছে চিন। তৈরি করছে সামরিক কাঠামো। নতুন করে ফেলছে তাঁবু।
সম্প্রতি ভারতের তরফে যে নতুন উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে তা ২২ জুনের। গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিন দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এর আগে যে উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ হয়েছিল, তা ছিল ১৬ জুনের। সেখানে দেখা গিয়েছিল, পেট্রল পয়েন্ট ১৪-এর কাছে সামরিক কাঠামো শুরু করেছে চিন। ২২ জুনের ছবিতে দেখা যাচ্ছে সেই একই জায়গায় নতুন তাঁবু ও ছাউনি তৈরি করছে তারা। এগুলি ১৬ জুনের ছবিতে ছিল না।
এই উপগ্রহ চিত্রে আরও দেখা গেছে, প্রথমবার এই এলাকায় গালওয়ান নদীর উপর কালভার্ট তৈরি করেছে চিন। এই কালভার্টের উপর দিয়েই চিনা ট্রাক নদী পার হচ্ছে। ১৬ জুনের ছবিতে যেখানে বুলডোজারের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল, সেখানেই এই কালভার্টগুলি তৈরি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ওই বুলডোজার দিয়ে পাথর ফেলে নদীর প্রবাহ কমিয়ে কালভার্ট তৈরি করেছে চিন।