দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১২ বছর আগে আইএনএক্স মিডিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে অনুমতি চেয়ে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ডের কাছে আবেদন করেছিলেন সংস্থার দুই প্রতিষ্ঠাতা পিটার ও ইন্দ্রাণী মুখার্জি। বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এতদিন বাদে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। তাঁর ছেলে কার্তি গত বছর ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন জেলে ছিলেন। শুধু চিদম্বরম বা তাঁর ছেলেই নন, ছ'জন আইএএস অফিসারও এই মামলায় অভিযুক্ত। তাঁদেরও জেরা করছে সিবিআই।
তাঁদের অন্যতম হলেন দীপক কুমার সিং। তিনি ১৯৯২ সালের ব্যাচের বিহার ক্যাডারের আইএএস। ২০০৬ থেকে ২০১০ পর্যন্ত এফআইপিবি-তে কর্মরত ছিলেন। এখন তিনি বিহারে লেবার রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। সিবিআই ও ইডি, দু'টি সংস্থাই তাঁকে জেরা করেছে। তিনি জানিয়েছেন, আইএনএক্স মিডিয়া বলেছিল, তারা ৪ কোটি ৬২ লক্ষ টাকার বিদেশি বিনিয়োগ চায়। তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মুখার্জিরা ডাউনস্ট্রিম ইনভেস্টমেন্টের জন্য আবেদন জানাননি। যদিও তাঁরা সেরকম ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। একটি ভারতীয় ও একটি বিদেশি কোম্পানি তৃতীয় কোনও ভারতীয় কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে তাকে ডাউনস্ট্রিম ইনভেস্টমেন্ট বলে।
অভিযুক্ত আর এক আইএএস অফিসারের নাম ডুভভুরি সুব্বারাও। তিনি ১৯৭২ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ ক্যাডারের অফিসার। একসময় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর ছিলেন। এখন অবসর নিয়েছেন। তিনি সিবিআইয়ের জেরার মুখে স্বীকার করেছেন, আইএনএক্স মিডিয়াকে বিদেশি বিনিয়োগে অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি নিয়ম ভাঙা হয়েছিল।
অপর অভিযুক্ত আইএএস অফিসার পি কে বাগগা ২০১২ সালের নভেম্বরে অর্থমন্ত্রকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি হিসাবে যোগ দেন। তিনি সিবিআইকে বলেছেন, এই মামলায় যদি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ এসে থাকে, তাহলে এফআইপিবি-র ব্যাপারটা আরবিআইকে জানানো উচিত ছিল।
আর এক অভিযুক্ত আইএএস অফিসারের নাম অশোক চাওলা। এফআইপিবি যখন আইএনএক্স মিডিয়াকে বিদেশি বিনিয়োগে অনুমতি দেয় তিনি তখন অর্থমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এয়ারসেল ম্যাক্সিস মামলায় সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করার অনুমতি পায়। তখন তিনি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
আর এক অভিযুক্ত আইএএস অফিসার সিন্ধুশ্রী খুল্লার একসময় নীতি আয়োগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। ২০০৪ থেকে '০৮ পর্যন্ত তিনি ডিপার্টমেন্ট অব ইকনমিক অ্যাফেয়ার্সে কাজ করতেন। সিবিআইয়ের বক্তব্য, তিনি আইএনএক্স মিডিয়ার নানা বেআইনি কার্যকলাপ দেখেও কোনও ব্যবস্থা নেননি।