
শেষ আপডেট: 16 March 2020 18:30
হু কর্তা আরও বলেন. শুধু চিকিৎসাই নয়, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইসোলেশনে পাঠানোও দরকার। যাতে তাঁর থেকে আর পাঁচজনের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। নোভেল করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর স্ট্রেন সার্স-সিওভি-২ থেকে যে সংক্রামক রোগ ছড়াচ্ছে তার নাম সিওভিডি ১৯। এই সংক্রমণ মানুষের থেকে মানুষে (Human to Human Transmission)বেশি ছড়াচ্ছে। তাই সতর্কতা প্রয়োজন সব স্তরেই। বু কর্তা টেডরস ঘেব্রেইসাসের কথায়, যে ব্যক্তি বা মহিলা মনে করছেন তাঁর ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে তাঁর উচিত নিজেকে কোযারেন্টাইনে রাখা। দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসা শুরু করা। নিজের সন্তানদেরও সেই সময় দূরে রাখা উচিত। তাঁর মতে, শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ কম দেখা গেলেও তারা একেবারেই যে সংক্রমণের সম্ভাবনার বাইরে সেটা বলা যায়না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে আক্রান্ত মা-বাবার সংস্পর্শে থেকেই বাচ্চাদের মদ্যে রোগ ছড়িয়েছে। চিনে ১০ জন শিশু ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিল তাদের অভিভাবকের থেকেই। আবার তাদের থেকেই রোগ ছড়িয়েছিল অন্যদের মধ্যে। লন্ডনে এক সদ্যোজাত ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে ডেলিভারির পরেই। ডাক্তাররা মনে করছেন তার মা আগেই সংক্রামিত ছিল, তাই গর্ভেই হয়তো শিশুটির শরীরে প্রবেশ করেছিল মারণ ভাইরাস। সেইজন্যেই টেস্ট করাটা সবচেয়ে আগে দরকার বলে মনে করছেন হু কর্তা।
বিশ্বজুড়ে মহামারী নভেল করোনা। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার। বিস্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ছুঁতে চলেছে। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১৩,৯০৩। চিনের পরে ইরান, ইতালি, ফ্রান্সে মহামারী করোনাভাইরাস। সংক্রমণ বাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানিতেও। ভারতেও বিদেশি পর্যটক মিলিয়ে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়েছে।
ভাইরাস আক্রান্তদের সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না আমেরিকায় এমন দাবি আগেই উঠেছিল। মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেও সম্প্রতি জানিয়েছেন, দু’হাজারের বেশি ল্যাবোরেটরিতে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে। প্রস্তুত আছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করার সব ব্যবস্থাই রয়েছে। হু কর্তা ঘেব্রেইসাস বলেছেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিরিখে চিন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর অনেক বেশি এগিয়ে। উন্নয়নশীল দেশ বা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলিতে যেখানে প্রতি বছর অপুষ্টি ও সংক্রামক ব্যধিতে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে, সেখানে আক্রান্তদের টেস্ট করাবার বিশেষ ব্যবস্থা নেই। ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে একে অপরের থেকে। মহামারীর চেহারা নিচ্ছে ভাইরাস। একে রুখতে গেলে সচেতন হতে হবে মানুষকেই এবং অবশ্যই স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।